দীর্ঘ সময় ধরে মহামারী নভেল করোনা ভাইরাসের সাথে যুদ্ধ চলেছে বিশ্বের প্রতিটি দেশ। কিন্তু এর ফলে কর্মসংস্থান ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের উওর ব্যাপক প্রভাব পড়ার ফলে ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশে লকডাউন শিথিল করতে শুরু করেছে। তবে যেহেতু এখন পর্যন্ত মহামারী এ করোনা সংক্রমন পুরোপুরি ভাবে নির্মুল করা সম্ভব হয়নি। সেহেতু এই মুহুর্তে লকডাউন শিথিল করে নেওয়া বোকামি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কেননা এর ফলে করোনাভাইরাসের সংক্রমণও ছড়াচ্ছে।

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই লকডাইন শিথিল করা মানে দ্রুত গতিতে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণও ছড়িয়ে পড়া। তাই বর্তমানে করোনা মহামারির এক ’নতুন ও বিপজ্জনক পর্যায়ে’ রয়েছে বিশ্ব,

বিশ্বে সাড়ে চার লাখেরও বেশি মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে করোনাভাইরাস। আক্রান্ত প্রায় ৮৮ লাখ মানুষ। এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার একদিনে দেড় লাখ ব্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা গেছে। লকডাউন শিথিল করার পর যুক্তরাষ্ট্রে, এশিয়ার একাংশ এমনকি ইউরোপে দ্রুত ছড়াচ্ছে করোনার সংক্রমণ। এতেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি এ খবর জানিয়েছে।

থমকে যাওয়া অর্থনীতিকে সচল করতে বিভিন্ন দেশ বিধিনিষেধ শিথিল করছে। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা মহামারির বিপদ সংকেত এখনো কাটেনি। এ পরিস্থিতিতে লকডাউন শিথিলের মতো পদক্ষেপ ভবিষ্যতে ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। গতকাল শুক্রবার এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রস আধানম গ্যাব্রিয়েসুস বলেন, ’বর্তমানে বিশ্ব এক নতুন ও বিপজ্জনক পর্যায়ের মধ্যে রয়েছে। দীর্ঘদিন গৃহবন্দি থাকতে থাকতে বহু মানুষ এখন বীতশ্রদ্ধ। তবুও আমাদের মনে রাখতে হবে, বিপদ কিন্তু কাটেনি। এখনো দ্রুত হারে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে।’

কয়েক মাস ধরে দেশে দেশে গবেষকদের নিরন্তর চেষ্টা সত্ত্বেও এখনো মেলেনি করোনার ভ্যাকসিন। গবেষণার কাজ এখন পর্যন্ত ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পর্যায়েই সীমাবদ্ধ। ফলে কবে বহু প্রত্যাশিত এ ভ্যাকসিন বাজারে আসবে, সে দিকেই চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছে বিশ্ববাসী। যতদিন না ভ্যাকসিন আবিষ্কার হচ্ছে, ততদিন করোনা থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি পাওয়া এক প্রকার অসম্ভব বলে জানিয়ে দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এ পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছেন তাঁরা।

এদিকে, করোনার সংক্রমণ নিয়ে গতকাল শুক্রবার এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এতদিন জানা ছিল, চীনের উহান শহর থেকে বিশ্বে এ মারণভাইরাস ছড়িয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, গত বছরের ডিসেম্বেরই ইতালিতে করোনাভাইরাসের উপস্থিতির সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। তবে কী ইতালি থেকে চীন হয়ে করোনাজনিত কোভিড-১৯ বিশ্বে ছড়িয়েছে? নতুন গবেষণা এমন প্রশ্নই উসকে দিয়েছে। যদিও গত ফেব্রুয়ারির আগে ইতালিতে কোনো করোনা সংক্রমণের ঘটনা ধরা পড়েনি। তাই পুরো বিষয়টি নিয়ে এখনো রয়েছে ধোঁয়াশা।

উল্লেখ্য, প্রাণঘাতী নভেল করিনা ভাইরাসের তাণ্ডবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে এখন পর্যন্ত সারাবিশ্বে এ মহামারীতে প্রাণ হারিয়েছে ৪ লাখ ৬২ হাজার ৫২৫ জন, এবং এখন পর্যন্ত এ মহামারীতে আক্রান্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৮৭ লাখ ৫৮ হাজার ২৭০ জন। তবে আক্রান্তের ভেতর থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৬ লাখ ২৫ হাজার ৪৯৪ জন।