মহামারী করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য প্রতিষেধক আবিষ্কার না হওয়ায় প্রতিটি রাত যেন এক ভয়ংকার রাত হয়েই কাটছে সারাবিশ্বের মানুষের। আর তাই একযোগে কাজ করেছে যাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। যাতে তারা খুব শীঘ্রই এ মহামারী ভাইরাসের উল্লেখযোগ্য প্রতিষেধক তৈরি করে সারাবিশ্বকে এ অদৃশ্য শত্রুর হাত থেকে বাঁচাতে পারে। তবে এরই মধ্যে প্রতিষেধক নিয়ে বড় সুখবর দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। তারা আশাবাদী, চলতি এ বছরেই করোনার টিকা পাওয়া যাবে।

সংস্থার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সৌম্য স্বামীনাথন জানিয়েছেন, পরীক্ষার চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকা বেশ কয়েকটি টিকার আশাব্যঞ্জক ফল এসেছে। এদিকে জার্মান প্রতিষ্ঠান কিউরভ্যাক ও চীনা প্রতিষ্ঠান ক্লোভারের টিকা মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়েছে।

করোনার ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের দৌড়ে এগিয়ে আছে অক্সফোর্ড। মানবদেহে পরীক্ষার পর্যায়েই ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি আস্ট্রাজেনেকা ও ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউট এর উৎপাদন শুরু করেছে। আগস্টে চূড়ান্ত পরীক্ষায় উৎড়ে গেলে, সেপ্টেম্বরে হাতে আসবে এই ভ্যাকসিন।

এদিকে আগামী মাসে মানবদেহে পরীক্ষার শেষ ধাপ শুরু করতে যাচ্ছে মার্কিন বায়োটেক মডার্না। দুই হাজার একুশের শুরুতেই উৎপাদনে যেতে চায় প্রতিষ্ঠানটি।

মানবদেহে করোনা প্রতিষেধকের পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু করেছে জার্মান বায়োফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি কিউরভ্যাকও। ইতিবাচক ফল এলে জানুয়ারিতেই বিপণন শুরু হবে প্রতিষেধক। জোর চেষ্টা চালাচ্ছে চীনা প্রতিষ্ঠান ক্লোভারও। প্রথম ধাপের পরিক্ষা সফল হলে, আগস্টে শুরু হবে দ্বিতীয় ধাপ।

এসব অগ্রগতিতেই আশাবাদী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সৌম্য স্বামীনাথন বলছেন, ক্লিনিক্যাল ট্রায়েলে কার্যকর প্রমাণ হচ্ছে কিছু ভ্যাকসিন। এসময় ম্যালেরিয়া চিকিৎসায় ব্যবহৃত হাইড্রোক্লোরোকুইন কভিড রোগীর মৃত্যু ঠেকাতে পারে না বলেও জানান তিনি।


সারাবিশ্ব আজ অপেক্ষায় রয়েছে, কবে এ মহামারী ভাইরাসের উল্লেখযোগ্য প্রতিষেধক আবিষ্কার হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা এক নাগাড়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রতীক্ষিত এই টিকা আবিষ্কারে। তবে এখন পর্যন্ত মহামারী এ ভাইরাসের কোনো উল্লেখযোগ্য ওষুধ বা প্রতিষেধক না থাকায় ৭০০ কোটি মানুষ আশা রাখছে ভ্যাকসিনের উপর।