প্রাণঘাতী নভেল করোনা ভাইরাসের তাণ্ডবে সারাবিশ্ব আজ স্থবির। যেখানে প্রতিদিনই করোনা আক্রান্তের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে নতুন নতুন রেকর্ড তৈরি করছে। অন্যদিকে বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যাও। এছাড়া ভয়াবহ এ ভাইরাসের তাণ্ডবে দিশেহারা হয়ে পড়েছে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানও। ফলে এখন পর্যন্ত এ ভাইরাসের উল্লেখযোগ্য কোনো ওষুধ প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। তবে এ পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে ভ্যাকসিন বড় সুখবর দিয়েছে রাশিয়া।


আর দুই সপ্তাহের মধ্যেই করোনাভাইরাসের টিকা বাজারে আসবে বলে দাবি করেছে রাশিয়া। রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রণালয়ের তৈরি টিকা আগস্টের মাঝামাঝি বাজারে চলে আসবে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম।

বলা হয়েছে, ১০ অগস্ট বা তার আগেই নতুন এই টিকা বাজারে আনার সরকারি অনুমোদন মিলে যেতে পারে। রাশিয়ার গ্যামেলিয়া ইনস্টিটিউট এই টিকা তৈরি করছে। চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে সবার আগে ফ্রন্টলাইনে থাকা চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীসহ করোনা যোদ্ধাদের ওপর এই টিকা প্রয়োগ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। খবর সিএনএন ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের।


রাশিয়ার ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের প্রধান নির্বাহী কিরিল দিমিত্রিয়েভ করোনা প্রতিষেধক আবিষ্কারকে ’স্পুতনিক মোমেন্ট’ বলে দাবি করেছেন। ১৯৫৭ সালে অন্তঃরীক্ষে উপগ্রহ ’স্পুতনিক’ উৎক্ষেপণের সাফল্য পেয়েছিল রাশিয়া। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের সেই সাফল্যকে করোনাভাইরাস টিকা আবিষ্কারের সঙ্গে তুলনা করতে চেয়েছেন তিনি।

কিরিল দিমিত্রিয়েভ বলেছেন, স্পুতনিকের সাফল্যের কথা জেনে মার্কিনরা অবাক হয়ে গিয়েছিল। এবার ফের যুক্তরাষ্ট্রের তাক লেগে যাবে। করোনা টিকা তৈরিতে রাশিয়াই প্রথম সাফল্য দেখাবে বলেও দাবি করেন তিনি।

রাশিয়া যে সবার আগে করোনার টিকা আবিষ্কার করতে পারবে এমন দাবি আগেই করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। সম্প্রতি দ্বিতীয় পর্যায়ের পরীক্ষা সফল হওয়ার পরে রাশিয়ার উপ প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুসলান সালিকভ জানান, দেশের গামালেয়া ন্যাশনাল রিসার্চ সেন্টার ফর এপিডেমোলজি অ্যান্ড মাইক্রোবায়োলজির বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীরা যে টিকা তৈরি করেছেন, সেটি এখন ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত।

গত জুন মাসে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা গবেষণায় তৈরি হওয়া টিকার ক্লিনিকাল ট্রায়ালের অনুমতি দেয় রুশ সরকার। এরপর এক বিবৃতিতে কিরিল দিমিত্রিয়েভ সেসময় বলেন, ৩ আগস্ট ওই টিকার তৃতীয় দফার ট্রায়াল শুরু হবে। রাশিয়া ছাড়াও সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মানুষের উপরে এই পরীক্ষা হবে। ওই ট্রায়ালে অংশ নেবেন কয়েক হাজার মানুষ। সেটা সফল হলে আগামী সেপ্টেম্বর থেকে টিকা বন্টন শুরু হবে। এখন দাবি করা হচ্ছে, আগস্টের মাঝামাঝিতেই বাজারে চলে আসবে সেই টিকা।


এদিকে এখন পর্যন্ত মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সারাবিশ্বে আক্রান্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ১ কোটি ৭১ লাখ ৯৪ হাজার ২৬১ হন, এবং প্রাণ হারিয়েছে ৬ লাখ ৭০ হাজার ২৯৪ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ কোটি ৭ লাখ ৫ হাজার ৩৮৫ জন।