বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে ১১৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার মামলা দায়ের করেছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)। এদিকে এ মামলার প্রেক্ষাপটে আত্মসমর্পণ করেছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১০ কর্মকর্তা। আজ সোমবার ঢাকা মহানগর সিনিয়র বিশেষ জজ কেএম ইমরুল কায়েশের আদালতে উক্ত বিমান কর্মকর্তারা আইনজীবির দ্বারা জামিনের আবেদন করলে পরবর্তী ধার্য তারিখ পর্যন্ত আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। জানা যায়, অপর দিকে এ জামিনের বিরোধিতা করেছিলেন দুদকের পক্ষে মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর। কিন্তু আদালত তাদের জামিন দেন।
জামিন পাওয়া ১০ আসামি হলেন- সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক, কার্গো শাখা, বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) মো. লুতফে জামাল, সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক মোশাররফ হোসেন তালুকদার (কার্গো শাখা, বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত), সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক রাজিব হাসান (বাণিজ্যিক, কার্গো শাখা, বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত), সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক নাসির উদ্দিন তালুকদার (বাণিজ্যিক, কার্গো শাখা, বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত), সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক কে এন আলম (বাণিজ্যিক, কার্গো শাখা, বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত), সহকারী ব্যবস্থাপক মো. ফজলুল হক, (বাণিজ্যিক, কার্গো শাখা, বর্তমানে কার্গো আমদানি শাখা), সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক সৈয়দ আহমদ পাটোয়ারি (বাণিজ্যিক, কার্গো শাখা, বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত), সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক মনির আহমেদ মজুমদার (বাণিজ্যিক, কার্গো শাখা, বর্তমানে পিআরএল), সাবেক ব্যবস্থাপক এ কে এম মঞ্জুরুল হক (আমদানি, বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত) এবং সাবেক সহকারী ব্যবস্থাপক মো. শাহজাহান (বাণিজ্যিক, কার্গো শাখা, বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত)।

এর আগে ২০১৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর বিমানের সাবেক মহাব্যবস্থাপক (কার্গো) ও পরে মার্কেটিং অ্যান্ড সেলসের পরিচালক (বর্তমানে অবসর) মোহাম্মদ আলী আহসান এবং সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) ইফতেখার হোসেন চৌধুরী জামিন মঞ্জুর করেছিলেন আদালত।

সোমবার আসামি পক্ষের আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান জামিন শুনানি করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, ’মামলাটি উদ্দেশ্যেমূলক। এটি অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে দায়ের করা হয়েছে। বিলম্বিত এজাহারের মামলা সন্দেহের সৃষ্টি করে। এর গ্রাউন্ডও অসত্য।’

এর আগে গতবছরের ৩ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে দুদক সজেকা ঢাকা-১-এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ১৬ কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়।

তবে বিমানের ১১৮ কোটি টাকার দুর্নীতি মামলায় জামিন পেলেও তাদেরকে সমালোচনা অনেক তীব্র হয়। তারা দেশের কোটি কোটি আত্মসাৎ করে রাস্তা দিয়ে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াবে এমনটা কখনও শোভা পায় না। তবে যেহেতু আদালত পরবর্তীতে শুনানির দিন ধার্য করেছেন, তাই সে পর্যন্ত না গেলে কোনো কিছুই বুঝা যাচ্ছে না। তবে আশাবাদী আদালত ন্যায় বিচারই করবেন।