সম্প্রতি রাজধাণী ঢাকাতে অবৈধ ক্যাসিনো কর্মকাণ্ডে প্রথমে কারও নাম প্রকাশ না পেলেও একে একে বাহিরে বেড়িয়ে আসে ছোট ছোট চুনো পুটিসহ বড় বড় রাঘব বোয়াল। আইনের জালে ধরা পড়েন যুবলীগ নেতা খালেদ, জী কে শামীম ও যুবলীগ সভাপতি ইসমাইল চৌধরী সম্রাটও। তবে এবার অবৈধ ক্যাসিনো কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার দায়ে নাম উঠল ১৪দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননেরও। তবে এদিকে আজ এ বিষয়ে আনিসুর রহমান বলেন, এই মেনন সাহেবদের আমি এক সময় মনে মনে শ্রদ্ধা করতাম। মনে করতাম মেনন সাহেব এবং আরো কয়েকজন আছেন, যারা লোভী মানুষ না।
আমার মতো অনেকেরই এমন ভুল ধারনা ছিল। আজ বাংলাদেশের কোনো মানুষের এদের সম্পর্কে প্রকৃত ধারনা পেতে আর বাকি নেই। মন্ত্রীগিরি পেলেই মাথা ঠাণ্ডা, না পেলে তখন বিপ্লব পয়দা হয়! আগের মেনন আর আজকের মেনন আকাশ পাতাল ফারাক।

ভিকারুন্নেসা স্কুলে ভর্তি করতে টাকা নেওয়া মেননকে বাংলাদেশ চিনতো না। ক্যাসিনো চালানো ক্লাবের সভাপতি মেননকে মানুষ আগে চিনতো না।

আগে মন্ত্রী হতে পারেনি বলে ওনারা সুযোগের অভাবে সৎ ছিলেন, এখন মুখোশ খুলে গেছে।

গ্রেফতারের ভয়ে বিরাট ভাষণ দিয়েছেন আজ। কথা বলেছেন সরকারের বিরুদ্ধে। বলেছেন, ’নির্বাচনে মানুষ ভোট দিতে পারেননি।’

মারহাবা মারহাবা -

ভোটের পরের দিন এই ভাষণ তিনি দিলেন না কেন? মন্ত্রিত্ব না পাওয়ার পরও তিনি লাইন মতোই চলেছেন, কিন্তু এখন হঠাৎ কেন এই ভাষণ?

তিনি বলেন যে, ’দেশে কোন ভোট হয়নি, তিনি সাক্ষী!’ কিন্তু তিনি এমপিগিরি ছাড়ছেন না! তিনি আসলে বাঁচতে চাচ্ছেন!

ক্যাসিনোর টাকা কীভাবে পেতেন সকল প্রমাণ সরকারের হাতে, মন্ত্রী থাকাকালীন কি কি করেছেন সকল হিসেব সরকারের হাতে, ভিকারুন্নেসা স্কুলের হিসেব সরকারের হাতে।

তিনি যেভাবেই হোক জেনে গেছেন যে, তিনি গ্রেফতার হতে পারেন। তাই তিনি আজ এমন জ্বালাময়ী ভাষণ দিয়েছেন। যাতে মানুষ মনে করে যে, এই ভাষণের জন্য তাকে ধরা হয়েছে!

মেনন সাহেবের বোঝা উচিৎ, আজ উনার শত কোটি টাকা আছে কিন্তু সম্মান, মর্যাদা, জনপ্রিয়তা, সততার মুখোশ - কিছুই নাই।

এ টাইপের মানুষদের সম্মান থাকে না! তাদের বক্তব্য হাসির খোরাক জোগায়। মেনন সাহেবের বক্তব্য নিয়ে বাচ্চা ছেলেমেয়েরাও হাসাহাসি করছে!

এ ধরনের মানুষরা কখন, কেন, কি বক্তব্য দেন মানুষ সবই বোঝে! মেননের এই করুণ পরিণতি দেখে খুবই ভালো লাগছে...

উল্লেখ্য, সাবেক যুবলীগ সভাপতি ইসামাইল চৌধরী সম্রাটকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান, প্রতি মাসে মেনেনকে তিনি ১০ লাখ দিতেন। তার এমন কথার পরপরই নানা সমালোচনায় জড়িয়ে পড়েন মেনন। জানা গেছে, এই মুহূর্তে তিনি আইনের চোখে চোখে আছেন।