এক জুয়াড়ির দ্বারা ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। তবে সাকিব তার প্রস্তাবকে প্রত্যাখান করলেও আইসিসি তার অপরাধ ধরেছে তিনি কেন এ কথা জানান নি। এ কারণে আন্তরজাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) তার শাস্তি ২ বছর ধার্য করলেও সাকিব দোষ স্বীকার করে নেওয়ায় তাকে ১ বছরের জন্য সব রকমের খেলা থেকে নিষেধাজ্ঞা দেয় আইসিসি। তবে এবার নিজ ফেইজবুক আরিফ জেবতিক লেখেন, অভিযোগের কারণে সাকিবকে আইসিসি জিজ্ঞাসাবাদ করেছে ২৩ জানুয়ারি ২০১৯ সালে। নিশ্চিতই সাকিবের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে সাক্ষ্য গ্রহণেরও আগে। খেলোয়াড়দের আন্দোলন হয়েছে সাকিবের সাক্ষ্য গ্রহণের নয় মাস পরে। সুতরাং সাকিবের পরিণতির জন্য কোনোভাবেই পাপনদাকে দায়ী করা নায্য হয় না। তদন্ত তো আগে থেকেই চলছিলো। এই টাইমিংয়ে রায় আসার সঙ্গে খেলোয়াড়দের আন্দোলনের কোনো সম্পর্ক আছে বলে মনে হয় না। তবে আইসিসি চালায় ভারত। ভারতের সফরে যাতে সাকিব যেতে না পারে, সেটার সঙ্গে রায় প্রকাশের টাইমিংয়ের সম্পর্ক থাকতে পারে।
২. ভালো লেগেছে যে সাকিব অভিযুক্ত হয়েছেন রিপোর্ট না করার জন্য, জুয়াড়িদের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার জন্য নয়। তিনি নিজেই নিজের ভুল বুঝে অকপটে সাক্ষ্য দিয়েছেন, এটাও সাহসের কাজ। আমার মতে, তার শাস্তিটা বেশি হয়ে গেছে, একজন খেলোয়াড়ের পিক টাইমে এক বছর অনেক বড় সময়। কিন্তু তারপরও এই সময় দ্রুত কেটে যাবে। সাকিব আবার মাঠে ফিরে এসে মাঠ দাপাবেন, এই বিশ্বাস আমাদের আছে। সাকিবের এই দুঃসময়ে তার জন্য ভালোবাসা।৩. একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে নিয়ম-শৃঙ্খলা। প্রতিভাবানদের একটু বেয়াড়াপনাকে সবাই সস্নেহ প্রশয় দেয়। কিন্তু তারপরও তাদের একটা ন্যূনতম নিয়ম-শৃঙ্খলার ভেতর দিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশ একটি প্রফেশনাল দল। এখানে বোর্ডের কাছ থেকে খেলোয়াড়দের জন্য প্রফেশনাল আচরণের দাবিতে যেমন আমাদের সমর্থন আছে, একইভাবে খেলোয়াড়রা প্রফেশনাল হবেন এটাও আমাদের চাইতে হবে।

যেমন ধরুন গ্রামীণফোনের চুক্তির ব্যাপারটা। সুস্পষ্টভাবে এটা করার কারণে বোর্ডের প্রায় ১শ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এখন এই টাকা কিন্তু দেশের টাকা, অন্যান্য খেলোয়াড়দের পাওনাসহ দেশের ক্রিকেট অবকাঠামোর টাকা। এখন ’যা করেছে বেশ করেছে’ বলে এসব আচরণকে সমর্থন করা ঠিক নয়।যেমন এই যে জুয়াড়িদের প্রস্তাবগুলো রিপোর্ট না করার এই খামখেয়ালিতে দেশেরও ক্ষতি। জাতীয় দলের প্রতিটি খেলোয়াড়ের পেছনে এই দেশের মানুষের কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ আছে। তাদের নিজস্ব খামখেয়ালিতে যদি তারা নিজেদের পাশাপাশি দেশেরও ক্ষতি করেন সেটিকে অন্ধ সমর্থন দেয়াটা উচিত হবে না। সন্তানের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে প্রশ্ন নেই, কিন্তু অন্ধ স্নেহে সন্তানের সব কিছুকে প্রশ্রয় দিলে সন্তানই নষ্ট হয়। আমরা যেন অন্ধ ভালোবাসায় শর্তহীন সমর্থনে একজন খেলোয়াড়কে আর দেশের ক্রিকেটকে নষ্ট না করে দিই।

তবে এই মুহুর্তে সাকিব দলে না থাকায় বাংলাদেশ টাইগারদের জন্য হতাসা। গতকাল বুধবার ভারতের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল রওনা দিলেও সাকিবকে তারা সাথে করে নিয়ে যেতে পারেন নি বলে দুঃখ প্রকাশ করেছে মাহমুদউল্লাহ। তিনি বলেছেন, সাকিব কোনো অপরাধ করেনি, আমরা তাকে আগের মতই ভালোবাসব।