বাংলাদেশে শিক্ষার হার আগের চেয়ে বর্তমানে যে হারে বৃদ্ধি পেয়েছে সে হারে কি দেশ উন্নত হয়েছে? এখন হয়্তো বাংলাদেশের ১০ ঘরের মধ্যে ৮ ঘরই শিক্ষিত। তারা হয়তো শিক্ষিতই হয়েছে কিন্তু জনশক্তিতে রুপান্তরিত হয়নি। আজ তাদের নাম দেওয়া হয়েছে শিক্ষিত বেকার। এদেশের প্রতিটা জেলায় দেখা যায় শিক্ষিত বেকারেরা একটি চাকরি পাওয়ায়র আশায় এদিক ওদিক ঘরে বেড়ায় কিন্তু কোথায়ও তাদের একটি চাকরি মেলে না। এক পর্যায়ে জীবিকার টানে তাদেরকে দেখে যায় রিক্সা চালকের রুপে।
এদিকে বাংলাদেশের এ শিক্ষার বিষয়টি নিজ ফেইজবুকে ভালো করে তুলে ধরেছেন আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, স্কুল লেভেলে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ শিক্ষা ব্যবস্থা ফিনল্যান্ডে। কেন তারা জগত সেরা?

কারণ স্কুল লেভেলে পরীক্ষা ব্যবস্থা’ই এরা উঠিয়ে দিয়েছে! ছাত্র-ছাত্রী’দের মাঝে কোন তুলনা নাই। কোন প্রতিযোগিতা নেই। কেবল’ই শেখার ব্যাপার।

আর আমাদের দেশে পিএসসি, জেএজসি, এসএসসি, এইচএসসিসহ পরীক্ষার শেষ নাই!
সেটা হলেও হতো।

শুনেছি পিএসসি পরীক্ষা চলছে এখন। এই পরীক্ষায় নাকি ৫০ এর অধিক বাচ্চা’কে বহিষ্কার করা হয়েছে!

ক্লাস ফাইভে পড়া একটা বাচ্চা’কে আপনারা কোন হিসেবে বহিষ্কার করছেন? এই বাচ্চা’র কি বুঝার বয়স হয়েছে?

এই রকম একটা পাবলিক পরীক্ষা নিয়ে’ই তো আপনারা অন্যায় করছেন। এখন আবার ওদের বহিষ্কারও করছেন!

যেই দেশে বাবা-মা, শিক্ষক’রা পর্যন্ত নকল সাপ্লাই দেয়; সেখানে ফাইভে পড়া বাচ্চ’কে কি না বহিষ্কার করা হচ্ছে।

এই বাচ্চার মনে তো জীবনে’র শুরুতে’ই ভয় ঢুকে গেল। সে বড় হয়ে কি আর পড়াশুনা করতে চাইবে?

এমনি এমনি তো আর এই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা’র এই হাল হয়নি। কেউ পড়তে চায় না। সবাই শর্ট-কাটে পাশ আর জিপিএ ফাইভ পেতে চায়!

এতো এতো পাশ আর জিপিএ ফাইভ নিয়েও এই দেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়’কে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মাঝে খুঁজে পাওয়া যায় না!

পিএচডি করেও উত্তর গোলার্ধ-দক্ষিণ গোলার্ধ কি বলতে পারে না!

কিছু শেখার কিংবা জানার দরকার নেই। জিপিএ ফাইভ পেলে’ই চলবে!

এভাবে’ই একটা দেশের ভবিষ্যৎ ধ্বংস হচ্ছে।

বর্তমানে আজ বাংলাদেশে যতো মানুষ শিক্ষিত হয়ে বেকার অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন, তারা যদি প্রত্যেকেই জনশক্তিতে রুপান্তরিত হলে আজ এ দেশ সারা বিশ্বের কাছে একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে সীকৃতি পেত। কিন্তু না আমাদের দেশের পড়াশুনা শুধু পরিক্ষার দেওয়া এ থেকে শেখার কোনো কিছুই নেই।