সম্প্রতি আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংবাদ মাধ্যমে বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ এতো বড় একটা সংগঠন কিন্তু যখন বঙ্গবন্ধু পড়ে ছিল তখন এ সংগঠনের লোকজন কোথায় ছিল? তাও আবার ৩২ নাম্বারে। এ সময়ে তিনি আরও বলেন, মাঝে মাঝে আমার অনেক জানতে ইচ্ছে হয় কেউকি একটু সাহস করে এগিয়ে আসতে পারেনি। তবে সম্প্রতি নতুন খবর নিজ ফেইজবুকে সওগাত আলী সাগর বলেন, ১৭ ডিসেম্বর সকাল থেকেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্ধৃত করে এই কথাগুলো ফেসবুকের নিউজফিডে ঘুরছে। সত্যিই কি শেখ হাসিনা এই কথাগুলো বলেছেন? মেইনস্ট্রিমের মিডিয়াগুলোয় এই বক্তব্য পড়ার অপেক্ষায় ছিলাম সেই থেকে। শেখ হাসিনার মনে এই ভাবনা কি হঠাৎ করেই উদয় হলো? নাকি আগেও ছিলো।
তিনি বলেছেন- ’মাঝে মাঝে এটা আমার জানতে ইচ্ছে করে যে’। ’মাঝে মাঝে’ সব সময় নয়। অথচ এটাই সবার আগে জানার চেষ্টা করা জরুরি ছিলো, কারণ অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন ছিলো। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ঠিক কোন দিকে এগোবে তার বোঝাপড়ার সঙ্গে এই বোঝাপড়াটার সম্পর্ক নিবিড়। আওয়ামী লীগের বিরোধী ও সমালোচকরা এই কথাটি তো হরহামেশাই বলতেন, এমন একটা মিথ্যা ইতিহাস তারা দাঁড় করাতে চেষ্টা করছে ৭৫-এর পর থেকেই। তবে শেখ হাসিনার এই ’জানতে চাওয়াটাকে’ আমি নিজের উপলব্দি এবং ইতিহাসের স্বরূপ সন্ধান হিসেবেই দেখতে চাই। আ্ওয়ামী লীগের মতো একটি বড় সংগঠনের নেতৃত্ব কাদের হাতে চলে গিয়েছিলো, আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণ কাদের হাতে চলে গিয়েছিলো যে নেতাকে হত্যার পরও সেই নেতারা নিজেদের আখের গোছাতে ব্যস্ত হয়ে পরেছিলেন।

তখনো তো চারদিকে কেবল আওয়ামী লীগই ছিলো, এখনো যেমন চার দিকে কেবল আওয়ামী লীগই দেখি। তখনো যেমন বঙ্গবন্ধুর চেয়েও বড় আওয়ামী লীগারে দল ভরে গিয়েছিলো, এখনো তো চারদিকে শেখ হাসিনার চেয়ে বড় আওয়ামী লীগে দল ভর্তি। ’মাঝে মাঝে’ শেখ হাসিনার মনে যে প্রশ্নটি উঁকি দেয়, ভাবনাটা তাকে ছেঁকে ধরে- তার উত্তর খোঁজা জরুরি, সেটা আসলে ইতিহাসের স্বরুপকেই খোঁজা। শেখ হাসিনা ৭৫-এর আওয়ামী লীগের কাছ থেকে যে প্রশ্নের মীমাংসা পেতে চান- আজকের আওয়ামী লীগ কি তার থেকে আলাদা কিছু? দল কোনো বিপদে পরলে এই আওয়ামী লীগের কয় জন রুখে দাঁড়াবে। যারা রুখে দাঁড়াবার- তারা তো অবহেলায় অভিমানে নিজেদের আড়াল করেই রেখেছে। তবু বলি, প্রিয় শেখ হাসিনাকে বলি, ’মাঝে মাঝ’ যে প্রশ্নগুলো আপনার মনে উঁকি দেয়, সেগুলোর উত্তর খোঁজার উদ্যোগ নিন।

যখন বাঙালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এমন বিপদের মুখোমুখি হয়েছেন তখন তো কারোরই দেখা মেলেনি। কিন্তু আওয়ামী লীগে নেতাদের শেষ নেই। এখন এ নেতা ও নেতা কতো নেতারাই রয়েছেন, কিন্তু এ চরম বিপদের দিকে কেউ এগিয়ে আসেনি। এগিয়ে আসার ইচ্ছা থাকালে তারা ঠিকই এগিয়ে আসতো।