মেয়র পদে জয়ী হতে দেশের মানুষকে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকেন প্রার্থীরা। কিন্তু যখনই তারা মেয়র পদে জয় লাভ করেন তখন দেশের মানুষের কথা তাদের আর মনে থাকে না। আর যদিও বা মানুষের জন্য তেমন কোনো চিন্তা ভাবনা থাকতো তাহলে শহরের দরিদ্র, স্বল্প আয়ের, সীমিত আয়ের মানুষের জন্য শহরটা সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে কেন? আজ এমনই প্রশ্নই তুলছে সবাই। সম্প্রতি নিজ ফেসবুক পেইজে এ বিষয়টি তুলে ধরেছেন শরিফুজ্জামান শরীফ।
তিনি লেখেন, ঢাকা শহরের প্রধান সমস্যা যানজট, জলজট, দখল, দূষণ নয়। এই শহরের দরিদ্র, স্বল্প আয়ের, সীমিত আয়ের মানুষের জন্য শহরটা সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে, তাদের জীবন সংগ্রাম দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। বাড়িভাড়া, গাড়ি ভাড়া, কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে আসছে। আপনি যদি শহরের কথা বলার সময় মানুষকে আপনার ভাবনায় রাখেন তাহলে এই বিষয়গুলো আপনাকে ভাবতে হবে। এতো বড় শহর গণপরিবহন সংকট আছে, কর্মজীবী নারীদের যাতায়াতের কথা আপনি ভাবেন না, সীমিত আয়ের মানুষের বাড়িভাড়া নিয়ে ভাবনা নেই, এতো বড় শহরে বিশুদ্ধ পানি, পাবলিক টয়লেট, তাদের চিকিৎসা, তাদের সন্তানদের শিক্ষা নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী? যে লোকটির দুই কোটি টাকার গাড়ি তিনি যে দামে জ্বালানি পান আর যে লোকটা তিন টাকা ভাড়া নিয়ে বাসের ভেতর ঝগড়া করতে বাধ্য হন। উভয়ের বাহনের জ্বালানির দাম কিন্তু সমান।

আমরা ভোট দিতে শিখিনি। গণতান্ত্রিক শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নাগরিকের দায় আছে। আপনি কাকে ভোট দিচ্ছেন ভাবছেন না। যে লোকটি হজের টাকা চুরির দায়ে মন্ত্রিত্ব হারালেন- বিএনপি তার দলের যে লোকটার মন্ত্রিত্ব কেড়ে নিলো আপনি সেই মান্নাকেই গাজীপুরের মেয়র বানালেন। অনেক ক্যাসিনো ডনকে এবারও আপনি কাউন্সিলর মনোনয়ন দিলেন তাদের আমরা ভোট দেবো সিটি করপোরেশনকে সচল করতে ওয়ার্ড কাউন্সিল অফিসকে সচল করতে হবে।

নির্বাচন এলেই অনেক প্রার্থীই আপনাদের কাছে আসবে। অনেকেই অনেক কথা্ বলবে। কিন্তু তার আগে আপনাদের ভাবতে হবে, আমি যাকে ভোট দিচ্ছি তিনি আসলে ভোট পাওয়ার যোগ্য কি না? এভাবে চিন্তা ভাবনা করে যদি আপনারা মূল্যবান ভোটটি একজন যোগ্যবান মানুষকেই দেন, তাহলে এই শহরের দরিদ্র, স্বল্প আয়ের, সীমিত আয়ের মানুষের জন্য শহরটা আর সংকুচিত হবে না। অবশ্যই আপনাদের জন্য সে কিছু না কিছু করবে।