সম্প্রতি দেশে মহামারী করোনা ভাইরাসের এ দূর্যোগকালীন সময়ে দেশ ত্যাগ করে কানাডায় পাড়ি জমান আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, কুষ্টিয়া সদর থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য মাহবুব-উল আলম হানিফ। তবে হঠাৎ করে তার এমন দেশ ত্যাগে নিবিন্ন মহল থেকে উঠে আসছে নানা প্রশ্ন। এছাড়া এখন পর্যন্ত তাকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনারও শেষ নেই।

তবে তাকে একের পর এক নানা প্রশ্ন করাউ অনেকটা ক্ষিপ্ত হয়ে শাবান মাহমুদ জানান, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, কুষ্টিয়া সদর থেকে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য মাহবুব-উল আলম হানিফ এখন কানাডায়। সম্প্রতি তিনি কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে কানাডায় ছুটে যান একান্তই পরিবারের টানে। কানাডায় থাকেন মিসেস হানিফসহ তার আদরের সন্তানেরা। দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদ, আওয়ামী লীগ নেতা হানিফের এই পারিবারিক সম্মিলনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন কেউ কেউ। কিন্তু কেন?

সাংবাদিকতার অনুসন্ধানী চোখ দিয়ে কেউ যদি এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রশ্ন তুলতে চান হানিফ কিভাবে কানাডায় এলেন? আশা করি নিশ্চয়ই এর জবাব তারা পেয়ে গেছেন। কানাডার মতো উন্নত রাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন সিস্টেম এতো দুর্বল নয় যে বাংলাদেশের একজন নাগরিক অস্বচ্ছতা ও অব্যবস্থাপনার মধ্যেই বিমানবন্দর পাড়ি দিলেন? তাহলে সাংসদ হানিফের কানাডা সফর নিয়ে অহেতুক যারা প্রশ্ন তুলতে চান তাদের উদ্দেশ্যে নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। নয় কী?



দীর্ঘ সময় পরিবারের সদস্যদের না দেখার ব্যকুলতা থেকে কোন বাবা যদি তার আদরের সন্তানদের সান্নিধ্য পেতে অস্থির হয়ে ছুটে যান রক্তের টানে কিংবা কোন দায়িত্বশীল স্বামী ছুটে যান প্রিয়তমা স্ত্রীর কাছে তা নিয়ে কী সভ্য মানুষ কোন প্রশ্ন তুলতে পারেন?

নাকি ব্যক্তি হানিফ নয়, উদ্দেশ্য অসুস্থ রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ কোনটি? পৃথিবীর কোনো রাজনৈতিক অভিধানে কী লেখা আছে যে যারা রাজনীতি করবেন তারা পারিবারিক দায়িত্ব পালনে বিরত থাকবেন? নেভার। ইটস এ্যাবসার্ড। যে কোন সচেতন মানুষেরই সহজ, সরল উপলব্ধি একজন রাজনীতিবিদ যেভাবে রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি তার দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে কাজ করেন, একইভাবে তিনি কোন অজুহাত কিংবা বিরূপ পরিস্থিতিতেও পরিবারের প্রতি দায়িত্ব এড়াতে পারেন না। আওয়ামী লীগ হানিফ সেই কাজটি করেছেন মাত্র। এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।

আরো সহজ, সমীকরণে যদি বলি করোনাকালে জনাব হানিফ কী তার নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্ব এড়িয়েছেন? আমার জানামতে কেবল নিজ নির্বাচনী এলাকা নয়, পুরো কুষ্টিয়ার মানুষের খোঁজ রেখেছেন তিনি। দলের পক্ষে নিবেদিত ছিলেন সারা দেশে। আওয়ামী লীগের যে কোন চ্যালেঞ্জ যাত্রায় গত এক দশকে হানিফ রাজপথে আপোষহীন, সংগ্রামী, সাহসী ভুমিকা রেখেছেন। তিনি এখন দলীয় কর্মীদের প্রাণের নেতা। শেখ হাসিনার বিশ্বস্ত রাজনৈতিক সহচর। তাই হয়তো হানিফকে নিয়ে প্রতিপক্ষের এতো জ্বালা?

আর মায়ের থেকে মাসীর দরদ বেশি শুনে আসছি সেই শৈশব থেকে। সাংসদ হানিফ কী দলকে প্রতিপক্ষের আগ্রাসী আক্রমণের মুখে ঠেলে দিয়ে কানাডায় পাড়ি জমালেন? তিনি কী দলকে বিপদে রেখে ছুটে গেছেন কানাডায়? নিশ্চয়ই না। হানিফ সাহেব কী রাজনৈতিক অপরাধী, মানি লন্ডারিংয়ের মামলায় অভিযুক্ত আসামি? তার কী বিদেশ যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা? এক কথায় উত্তর না। তাহলে আমার বিনীত জিজ্ঞাসা হানিফ সাহেবের বিদেশ সফর নিয়ে কেন এত আলোচনা- সমালোচনা?


প্রকৃত পক্ষে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ দেশ ত্যাগের পর থেকে তাকে নিয়ে একের পর এক নান আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। কিন্তু কেন এত সমালোচনা করছে মানুষ? আসলে অন্যের সমালোচনা করা মানুষের এখন বদ অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। আর তা না হলে কেন মানুষ এমনটা করছে?