আজ রবিবার (২৬ জুলাই) করোনা পরীক্ষায় জালিয়াতিতে সেই আলোচিত রাজধাণী রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমকে আদালতে হাজির করে তার বিরুদ্ধে ৪০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হলে আদালত তাকে ২৮ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন। তবে এ সময়ে আদালতে দাড়িয়ে সব দোষ স্বীকার করে নেন বহুরুপী প্রতারক সাহেদ করিম।

রোববার (২৬ জুলাই) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরীর আদালতে রিমান্ড শুনানিকালে তিনি বলেছেন, ’আমি তো অন্যায় করেছি। সব অপরাধের সাথে আমি জড়িত। যারা আমার বিরুদ্ধে মামলা করেছে, তাদের সব টাকা-পয়সা পরিশোধ করব।’

মো. সাহেদ বলেন, ’গত ১২-১৩ দিন ধরে আমি কী অবস্থার মধ্যে আছি। আমি আর পারতেছি না। প্রেসারের মধ্যে আছি। আমি অসুস্থ।’ ঈদের পর রিমান্ড শুনানির তারিখ ধার্য করার আবেদন জানান সাহেদ।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এর বিরোধিতা করে বলেন, ’বিনা টাকায় করোনা পরীক্ষা করার কথা থাকলেও আসামি রোগীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করেছে। সে একজন মহাপ্রতারক। অসুস্থ না হয়েও গত ১৬ জুলাই আদালতে সে নিজেকে করোনা রোগী বলে দাবি করে। আসামি আষাঢের গল্প বলছে। পুলিশ তার যে রিমান্ড চেয়েছে, আমরা তা মঞ্জুরের প্রার্থনা করছি।’

আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে রিমান্ডের আদেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজাদ রহমান জানান, সাহেদ সব অন্যায় ও অপরাধের সাথে জড়িত থাকার কথা আদালতে স্বীকার করেছে। যারা তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে তাদের টাকা-পয়সা ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলেছে সাহেদ।

এদিকে, আজ রিজেন্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুদ পারভেজকে পৃথক তিন মামলায় ২১ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

সাহেদের চার মামলায় ১০ দিন করে ৪০ দিন এবং মাসুদের তিন মামলায় ১০ দিন করে ৩০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে পুলিশ।

গত ১৬ জুলাই সাহেদ ও মাসুদ পারভেজের ১০ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এদিন ওই মামলায় রিমান্ড শেষে তাদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশ। একই আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনের দুই মামলায় সাহেদকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোর্শেদ আল মামুন ভূঁইয়া গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। সাড়ে ১২টার দিকে তাদের আদালত থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।

গত ১৬ জুলাই প্রতারণার মামলায় সাহেদকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরপর মঙ্গলবার (২১ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সাহেদের মামলার তদন্তের দায়িত্ব র‌্যাবকে দেওয়া হয়।


করোনা ভাইরাস পরীক্ষার নামে জালিয়াতি করায় অভিযোগে গত (১৫ জুলাই) সাতক্ষীরা থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময়ে সাহেদকে আটক করে র‍্যাব। এরপর আদালত তাকে ১০ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের নেওয়ার আদেশ দেয়। এরপর আজ তাকে আবারও ২৮ দিনের রিমান্ড দেয় আদালত।