সম্প্রতি করোনা পরীক্ষার নামে জাতিয়াতি করে সাধারন মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গত (১৫ জুলাই) বৃহষ্পতিবার সাতক্ষীরা থেকে ভার‍তে পালিয়ে যাওয়ার সময়ে রাজধাণী রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ করিমকে আটক করে র‍্যাব। আর এরপর একে একে বেরিয়ে আসতে থাকে সাহেদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ।
এবার জানা যায়, পদ্মা ব্যাংকের (সাবেক ফারমার্স ব্যাংক) এক কোটি টাকা ঋণ আত্মসাতের অভিযোগে একটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), যাতে ব্যাংকটির সাবেক অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক চিশতী ওরফে বাবুল চিশতী সঙ্গে আলোচিত প্রতারক রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদকে আসামি করা হয়েছে।


দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ বাদী হয়ে রোববার ঢাকার এক নম্বর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মোট চারজনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন বলে সংস্থাটির মুখপাত্র প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য জানান।

তিনি বলেন, বাবুল চিশতীর ছেলে রাশেদুল হক চিশতী ও রিজেন্ট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইব্রাহিম খলিলকেও আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে প্রনব বলেন, "২০১৫ সালের জানুয়ারিতে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অসৎ উদ্দেশ্যে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে পদ্মা ব্যাংকের গুলশান কর্পোরেট শাখা থেকে এক কোটি টাকা ঋণ (যা সুদ আসলসহ দুই কোটি ৭১ লাখ টাকা) নিয়ে আত্মসাৎ করেন।"

আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারা, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন- ২০১২ এর ৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এর আগে গত ২২ জুলাই এনআরবি ব্যাংকের এক কোটি ৫১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিমসহ চারজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে দুদক।

আগের দিন ২১ জুলাই পদ্ম ব্যাংকের প্রায় ৬৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে বাবুল চিশতীসহ ছয় জনকে আসামি করে মামলা করেছে কমিশন।

অবৈধ সুবিধা নিয়ে ভুয়া দলিলপত্রের মাধ্যমে নামে-বেনামে ঋণ বিতরণসহ অন্যান্য মাধ্যমে পদ্মা ব্যাংকের শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বাবুল চিশতীর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত আটটি মামলা করেছে দুদক।


উল্লেখ্য, করোনা পররিক্ষার নামে ভুয়া রিপোর্ট দেয়া এবং সরকারের সাথে চুক্তি ভঙ্গ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার দায়ে সাহেদ করিমকে প্রধান আসামি করে মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হলে প্রথমে ৮ জন এরপর সাহেদসহ বাকি আরও একজনকে আটক করা র‍্যাব।