সম্প্রতি সিলটের নগরীরি বন্দরবাজার পুলিশ ফাড়িতে রায়হান /হ//ত্যা/ মা’ম’লা’র অন্যতম প্রধান আসামি রখাস্ত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিয়ে এবার বিপাকে পড়লেন সেই রহিম উদ্দিন। এবার তার ওপর অভিযোগ এসেছে এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে আটকের ’কৃতিত্ব’ দাবিদার রহিম উদ্দিন লোভে পড়েই সবকিছু ফাঁস করে দেন।
মূলত ’পুরস্কারের’ টাকা তার হাতছাড়া হতে পারে- এমন লোভ থেকেই তিনি পুলিশের নির্দেশনার বাইরে চলে গিয়ে ভারত থেকে আকবরকে ধরে নিয়ে আসার তথ্য প্রকাশ করেন। পাশাপাশি আকবরের সঙ্গে তার ছবি ও ভিডিও ধারণের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দিতেও সহায়তা করেন তিনি। কানাইঘাট সীমান্তের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। তারা জানান, এক সপ্তাহ আগ থেকেই রহিমকে কানাইঘাট থানা পুলিশের গাড়িতে চলতে দেখা গেছে। তাকে পুলিশই নিযুক্ত করে আকবরকে ধরতে সহায়তার জন্য।

বিষয়টি স্বীকার করে সিলেটের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন বলেন, রহিম উদ্দিন ইচ্ছায় হোক আর অনিচ্ছায় হোক বিষয়টি ঘোলাটে করেছে। কয়েকটা ইউটিউব চ্যানেল তাকে উৎসাহিত করায় সে লোভে পড়ে যায়। তিনি বলেন, আমরা কারও কৃতিত্ব হরণ করিনি। আমরা বলেছি, পুলিশের কিছু বন্ধুর সহযোগিতায় আকবরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের সোর্স না বলে সম্মান করে বন্ধু বলেছি। আকবরকে গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ায় সীমান্তবর্তী মানুষের অবদান রয়েছে।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, জনগণ, গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেভাবে বলতে পারে পুলিশ সেভাবে পারে না। আইন ও সীমাবদ্ধতা বজায় রেখে পুলিশকে চলতে হয়, কথা বলতে হয়। আকবরকে ধরে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে সেটাই মুখ্য বিষয়। সিলেটবাসী জেলা পুলিশকে যেন ভুল না বোঝেন সে অনুরোধ করেন তিনি।

পুলিশ ও বিজিবির সোর্স কানাইঘাটের লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের পাত্তিছড়া গ্রামের মৃত তরফ আলীর ছেলে রহিম উদ্দিন গৃহস্থালির পাশাপাশি চো/রা/কা/র/বা/রি/র সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তার স্বজনরা ভারতের শিলচরে থাকায় সেখানে প্রায়ই যাতা/য়াত করেন তিনি। খাসি/য়াদের স/ঙ্গেও রয়েছে তার সু/স/ম্প/র্ক। সেই হিসেবে রহিমকে পুলিশ নিয়োগ করে। এ জন্য তার পেছনে টাকাও খরচ করা হয়। এমনকি পুলিশের পক্ষ থেকে ভারতীয়দের ১০ লাখ রুপি দেওয়া হয় বলেও গুঞ্জন রয়েছে। যদিও জেলা পুলিশ বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
গত শনিবার রাতে ভারতের করিমগঞ্জের শিলচরে আটক হওয়ার পর আকবরকে রহিমের মাধ্যমেই ডনা সীমান্তে নিয়ে আসা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করা একটি ভিডিওতে রহিম উদ্দিনকে ফোনে বলতে শোনা যায়- ’ওসি স্যাররে কও আমি পাইছি, আমি লগে লগে আছি ওখন’। কিন্তু ডনা বস্তিতে আকবরকে নিয়ে আসার পর বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করে তা আপলোড করা হলে পুলিশের গোপনীয়তা রক্ষা হয়নি। কে আকবরকে ধরেছে সে প্রশ্ন সামনে চলে আসে। আকবরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এমন দাবির পর ক্ষোভ প্রকাশ পেতে থাকে।
ডনা সীমান্তে বাংলাদেশের নাগরিক আবুল হোসন জানান, আকবরকে গ্রেপ্তারে রহিম উদ্দিনের অবদান অস্বীকার করা যাবে না। তাকে পুলিশ নিযুক্ত করেছে। এক লন্ডনপ্রবাসী নাকি ঘোষণা দিয়েছেন আকবরকে ধরতে পারলে ১০ লাখ টাকা দেবেন। রহিম উদ্দিন হয়তো সেই লোভ থেকে আকবরকে ধরে নিয়ে এসেছেন।
এ প্রসঙ্গে রহিম উদ্দিন বলেন, আমি মেঘালয়ে আকবরকে আটক করাই। তাকে লোক দিয়ে ডনা এলাকায় নিয়ে আসি। আমিও সেখানে যাই। পুলিশকে সব বলেছিলাম। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। কোনো লোভে আকবরকে ধরে তা প্রচার করেননি দাবি করে তিনি বলেন, ডনায় খাসিয়া ও কিছু বাঙালি আকবরের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকে ছেড়ে দেয়।


এদিকে গত সোমবার (০৯ নভেম্বর) বরখাস্ত এই এসআই আকবর হোসেনকে আটকের পর আদালতে নেয়া হলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত তাকে ৭ দিনের রিমাণ্ডে নেয়ার নির্দেশ দেয়। জানা গেছে, ইতিমধ্যে কারাগারে তা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করছে পুলিশ।