দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার অভিযোগে ইতিপূর্বে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার হয়েছেন দলের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা। এমনকি তারা যেন পূনরায় দলে স্থান না পায়, সেজন্যও তাদেরকে চিহ্নিত করে রেখেছেন ক্ষমতাসীন এ সরকার। আর এরই জের ধরে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি হবিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করার আভিযোগে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার হন বর্তমান মেয়র মো. মিজানুর রহমান। আর এবার স্বামীর পথেই হাটলেন স্ত্রী জলি রহমানও। জানা গেছে, নৌকার বিরুদ্ধে প্রচারনায় অংশ নেয়ায় স্বামীর মতই এবার জলি রহমানকে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।
সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) হবিগঞ্জ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জমিলা খাতুন ও সাধারণ সম্পাদক আলেয়া আক্তার তাকে বহিস্কার করেন।


মহিলা আওয়ামী লীগের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হবিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. মিজানুর রহমানের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় হবিগঞ্জ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জলি রহমানকে বহিস্কার করা হল।

প্রেস বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাফিয়া খাতুন ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা খাতুনের কাছে পাঠানো হয়েছে।


এর আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বিদ্রোাহী প্রার্থী বর্তমান মেয়র মো. মিজানুর রহমানকে হবিগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ থেকে বহিস্কার করা হয়েছিল।

এছাড়া তার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক চৌধুরী শুভ বাতেন, হবিগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জুবেদ আহমেদ সবুজ ও যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাগরকেও সাংগঠনিক পদ থেকে বহিস্কার করে জেলা ছাত্রলীগ।

মিজানুর রহমান ২০১৯ সালের ২৫ জুন হবিগঞ্জ পৌরসভার উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ৭ হাজার ৬২১ ভোট বেশি পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। প্রায় ১৯ মাস পর আবার হবিগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোটগ্রহণ করা হবে। এ পৌরসভায় মোট ৫০ হাজার ৯০৩ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ২৫ হাজার ২৮৩ ও নারী ২৫ হাজার ৬২০ জন।

তবে সম্প্রতি এ ব্যাপারে জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলেয়া আক্তার গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ’সংগঠনের আর কেউ নৌকার বিরুদ্ধে প্রচারণায় অংশ নিলে, তাদেরও একই ভাবে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।’ কেননা পরবর্তীতে এদের কারনেই দলের মান ক্ষীণ হযয়ে থাকে।