কালের বিবর্তনে বাংলাদেশ থেকেও একে একে হারিয়ে যেতে বসেছে শত শত ঐতিহ্য। তবে এরপরও দেশে এখনও এমনকিছু ঐতিহ্য বিদ্যমান রয়েছে যা সবাইকে মুগ্ধ করে। আর এর মধ্যে একটি হলো ঐতিহ্যবাহী মেলা। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মেলায় সামিল হয় হাজার হাজার মানুষ। কেননা অনেকের কাছে মেলা মানেই চমকপ্রদ কিছু জিনিসের সঙ্গে পরিচয় হওয়া। আর এরই জের ধরে ফরিদপুরের বোয়ালমারীর ঐতিহ্যবাহী কাটাগড় মেলায় এবার বিশেষ আকর্ষণ বালিশ মিষ্টি। যার এক জোড়ার মূল্য ১ হাজার ৫০০ টাকা। এ মেলার ঐতিহ্য হচ্ছে মাটির খুঁটিতে সাজ-বাতাসা আর কদমা। কিন্তু এবার এর পাশাপাশি বালিশ মিষ্টি আগতদের বিশেষভাবে মন কেড়েছে।
রোববার (২৮ মার্চ) কাটাগড় মেলা ঘুরে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত শতাধিক মিষ্টির দোকান বসেছে। হরেকরকম মিষ্টির পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। ক্রেতাদের ভিড়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থেকে আগত মিষ্টির দোকানদার দিনবন্ধু সাহা জানান, কেনাবেচা বেশ ভালোই হচ্ছে। আমাদের দোকানের বিশেষ আয়োজন হচ্ছে বালিশ মিষ্টি। প্রতি পিস বালিশ মিষ্টি ৮০০ টাকা। আর এক জোড়ার দাম ১৫০০ টাকা। তবে ছোট সাইজের বালিশ মিষ্টির দাম ৪০০ টাকা আর প্রতি জোড়া ৮০০ টাকা। এছাড়া প্রতি পিস মোহনভোগ ১০০ টাকা, সীতাভোগ ১০০ টাকা, সম্মানীভোগ ১০০ টাকা, পানি তাওয়া ৫০ টাকা ও রাজভোগ ৫০ টাকা।

এ মিষ্টি দোকানি বলেন, ’দোকানের পেছনেই মিষ্টি তৈরির করা হয়। একেবারে টাটকা মিষ্টি বিক্রি করছি আমরা। প্রতি দিন গড়ে ছোট-বড় মিলিয়ে ৪-৫ শত পিস বালিশ মিষ্টি বিক্রি হয়।’

যশোর জেলা থেকে আসা আরেক মিষ্টির দোকানদার অসিম কুমার সাহা বলেন, ’দোকানে প্যারা সন্দেশ, সাগরভোগ, বালিশ মিষ্টিসহ বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি রয়েছে। প্রতি দিন গড়ে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা কেনাবেচা হচ্ছে।’

রূপাপাত ইউপি চেয়ারম্যান আজিজার রহমান বলেন, ’মেলার আয়তন প্রায় সোয়া তিন কিলোমিটার হবে। এ বছর মেলায় বিভিন্ন পণ্যের পাঁচ হাজারের অধিক দোকানের পসরা বসেছে। তবে মাটির খুঁটিতে সাজবাতাসা মেলার পুরাতন ঐতিহ্য।’


এদিকে এ মেলায় আয়োজক কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্বরত মশিউল আজম বাবু মিয়া গণমাধ্যমকর্মীদের নিশ্চিত করেন, ’অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও এ মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় ১০ লাখ মানুষের সমাগম হয়েছে। আর এবারের মেলায় বিশেষ আকর্ষণ বালিশ মিষ্টি।’ প্রতি বছরের ঠিক এই সময়ে ঐতিহ্যবাহী কাটাগড় মেলার আয়োজন করে থাকেন তারা।