বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার সদরঘাটে অবস্থিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম প্রকাশ পায় পূর্বতন জগন্নাথ কলেজকে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণার মাধ্যমে। যেখানে ড: এ. কে. এম. সিরাজুল ইসলাম খান প্রথম অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪র্থ বারের মতো অধ্যাপক হিসেবে যোগদেন ড. মীজানুর রহমান। তবে বর্তমান সময়ে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ওপরে ’শিক্ষা, ঈমান ও শৃঙ্খলা’ এই মূলনীতি সম্বলিত যে কাষ্ঠখণ্ড ছিল সেটি উধাও হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভিসি বলেন, ওই মূলনীতি ছিল কলেজের, বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়।
গতকাল রোববার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রশাসনিক ভবনের ওপরে শিক্ষা, ঈমান, শৃঙ্খলা সম্বলিত কাঠের খণ্ডটি নেই। অনেকেই বলছেন, কাঠের খণ্ডটি কিছু দিন আগেও সেখানে ছিল।

প্রতিষ্ঠানটির সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা বলছেন, যদি ঝড়-বাতাসে সেটি পড়েও গিয়ে থাকে, কিন্তু তা পুনঃস্থাপনের কোনো উদ্যোগ নেই প্রশাসনের।

তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন থেকে মূলনীতি শিক্ষা, ঈমান, শৃঙ্খলা সম্বলিত লোগোটি উধাও হয়েছে চলতি বছরের শুরুতে।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জবির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী তামীমা সুলতানা বলেন, ’আমরা দেখেছি যে একটা সময় লোগোটি ছিল, এখন সেটি নেই, এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের অবহেলার কারণে ঘটেছে। প্রশাসনকে আরো সচেতন হতে হবে। ভাবতেই অবাক লাগে, মূলনীতি উধাও হয়ে গেছে কিন্তু প্রশাসনের কোনো মাথা ব্যাথা নেই।

এ বিষয়ে জবি ভিসি ড. মীজানুর রহমান বলেন, ’সেটি (লোগো) জগন্নাথ ভার্সিটির ছিল না, জগন্নাথ যখন কলেজ ছিল তখনকার, খুলে পড়ে গেছে অনেক আগে, আমরা নতুন করে সেখানে জগন্নাথের লোগো লাগাব।’


প্রসঙ্গত, আওয়ামী যুবলীগের বর্তমান কমিটির প্রথম প্রেসিডিয়াম সদস্য মীজানুর রহমান। সম্প্রতি সময়ে তিনি জানিয়েছিলেন ভিসির দায়িত্ব ছেড়ে যুবলীগের কমিটিতে ফিরে যাওয়ার কথা। ১৮ অক্টোবর ২০১৯ তারিখে যমুনা টেলিভিশনে টকশোতে এ বক্তব্য দেন। এ বিষয়ে বাংরাদেশের গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়।