সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন বাংলা সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা সাইমন সাদিক। তবে মুহুর্তে মধ্যেই ভাইরাল হয়ে যায়। যেখানে দেখা যায়, প্রয়াত বাংলা সিনেমার স্বনামধণ্য ও গুণী অভিনেতা সালমান শাহের প্রিয় একটি গাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে আছেন সাইমন। পোস্ট ভক্তদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

তবে এদিকে সালমান শাহের সেই গাড়ির কয়েকটি ছবি পোস্ট করে এ বিষয়ে ফেসবুকে সাইমন অনেকটা কষ্ট নিয়ে লেখেন, সালমানের ভক্ত হিসাবে তার অন্তরে যে ভালোবাসা আর আবেগ রয়েছে, তা যদি সালমানের পরিবারের কারও থাকত, তাহলে হয়তো গাড়িটা সালমান শাহের বাড়িতেই থাকত। এভাবে বিক্রি করা হতো না।

এবার সেই গাড়ি কেন বিক্রি করা হলো প্রশ্ন ছুড়েছেন সালমান শাহের সাবেক স্ত্রী সামিরা।

এ জন্য প্রয়াত এই চিত্রতারকার মা নীলা চৌধুরীকে দুষছেন তিনি।

সামিরা বলেছেন, ’কিছুদিন আগে সালমানের গাড়ি নিয়ে গণমাধ্যমে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল। চিত্রনায়ক সাইমন গাড়িটিতে বসে আছেন। কিন্তু এ গাড়ি তো আমার নামে রেজিস্ট্রেশন করা। এখনও কাগজ আছে আমার কাছে। ১৯৯৫ সালের ২০ ডিসেম্বর আমাদের শেষ বিয়েবার্ষিকীতে সালমান আমাকে এটি উপহার হিসাবে দিয়েছিল। একটি চিঠিও দিয়েছিল সঙ্গে। চিঠিতে উল্লেখ ছিল গাড়িটি আমার নামে। সে চিঠি এখনও আমার কাছে আছে। এটি তদন্তের স্বার্থে ডিবিকে দিয়েছি, পুলিশকে দিয়েছি, পিবিআইকেও দিয়েছি। যে গাড়ির মালিক আমি সেই গাড়ি সালমান শাহের মা কী করে বিক্রি করে দিলেন? সালমানের মৃত্যুর কিছুদিন পরই তিনি গাড়িটা সিলেটের একজনের কাছে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন বলে জেনেছি। পরে সেই গাড়ির মালিকানা আরও বদলেছে। গাড়ির রেজিস্ট্রেশন তো আমার নামে, তো বিক্রি যে হলো সইটা দিলো কে? আমি তবুও কিছু বলিনি তিনি সালমানের মা এটা ভেবে। তবে বলার সময় হয়ে এসেছে। সময় হলে জায়গামতো সব কাগজপত্র হাজির করব।’


উল্লেখ্য, পারিবারিক কোলাহলের জেরে ১৯৯৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ৬ তারিখ মাত্র ২৪ বছর বয়সে সবাইকে কাদিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান বাংলার এই স্বনামধণ্য জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান শাহ। অভিনয়ের এই সংক্ষিপ্ত সময়ে তার জনপ্রিয়তা ছিল সবার উপরে। তাই হুট করে তার এমন বিদায় যেন মেনে নিতে পারছে না কেউ।