বাংলা রুপালী জগতের এক অন্যতম নক্ষত্র ও খ্যাতিমান অভিনেত্রী আফরোজা সুলতানা রত্না। সিনেমার পর্দায় শাবানা নামেই ভক্তদের মাঝে অধিক পরিচিত। ১৯৬২ সালে ’নতুন সুর’ নামের সিনেমাটিতে শিশুশিল্পীর ভূমিকায় অভিনয় করে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। এরপর ১৯৬৭ সালে ’চকোরী’ সিনেমায় অভিনয়ের মধ্যদিয়ে চিত্রনায়িকা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। তবে বর্তমানে অভিনয় জগত থেকে অনেক দূরেই রয়েছেন এই গুণী তারকা।
আমেরিকায় যেমন আছেন

রবিবার মধ্যরাত পেরিয়ে ঘড়ির কাঁটা তখন এখানে প্রায় ১টার ঘরে। আমেরিকা থেকে মোবাইল কলে অপর প্রান্তে ঢালিউডের বিউটি কুইনখ্যাত জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবানা। জানতে চাইলেন দেশের করোনা পরিস্থিতির খবর। বললেন, শুনেছি ঢাকায় মানুষ বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। বললেন, রমজানে দেশে আসতে চেয়েছিলাম। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির অবনতি দেখে আসতে মন সায় দিচ্ছে না। শাবানা এখন নিউজার্সিতে আছেন। জানালেন সেখানকার করোনা অবস্থা আবার খানিকটা অবনতি হয়েছে। করোনার কারণে প্রায় এক বছর বাসা থেকে একমুহূর্তের জন্যও বের হননি তিনি। বিউটি কুইন বলেন, আশার কথা ইতিমধ্যেই এ মহামারীর ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হয়েছে। তাই ভয়ের কিছু নেই। এখন শুধু স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে মেনে চললেই হলো। তিনি বলেন, এ দুর্যোগে প্রিয় চলচ্চিত্র অঙ্গন ও দেশের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে মন কাঁদে তাঁর। শাবানা বলেন, করোনাকালে ঘরের যাবতীয় কাজকর্ম, নামাজ, দোয়া ও রোজা পালনের মধ্য দিয়ে সময় কাটছে। কথায় কথায় এখানে রাত বাড়ে। আমেরিকায় তখন বিকাল সাড়ে ৩টা। আবারও দেশের মানুষের জন্য অভয়ের বাণী দিয়ে একসময় কথা শেষ করেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী শাবানা।



শাবনূরের কথা

বিউটি কুইনখ্যাত অভিনেত্রী শাবানার পর অন্য যে অভিনেত্রী জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে শাবানার কাছাকাছি পৌঁছতে পেরেছিলেন তিনি হলেন হার্টথ্রব শাবনূর। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী শাবনূর বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে পরিবারসহ বসবাস করছেন। অভিনয় থেকে নিজেকে কিছুটা গুটিয়ে নিয়ে ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনটাকে এখন উপভোগ করছেন তিনি। সংসার ও সন্তানকে নিয়ে এখন বেশি মনোযোগী। তাঁর জনপ্রিয়তায় একটুও ভাটা পড়েনি এখনো। একমাত্র ছেলে আইজান নেহানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই তিনি এখন অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে রয়েছেন। সেখানে ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন। গত বছরের জানুয়ারিতে সর্বশেষ তিনি অস্ট্রেলিয়া পাড়ি দেন। সেখানকার নাগরিকও তিনি। কথা ছিল গত বছরের মার্চেই দেশে ফিরবেন। কিন্তু ওই মাসেই বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারীর তা-ব শুরু হলে এখন পর্যন্ত তাঁর আর ফেরা হয়নি। সিডনিতে করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করে জীবন চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। ছোট বোন ঝুমুরের স্বামীর সঙ্গে নানা ব্যবসায় যুক্ত আছেন। করোনাকালে বিদেশে থাকলেও দেশের মানুষ বিশেষ করে তাঁর কর্মক্ষেত্র চলচ্চিত্রের মানুষের জন্য মন অবিরাম কাঁদে তাঁর। চলচ্চিত্রের অসহায় মানুষের জন্য সাধ্যমতো সাহায্য-সহযোগিতাও পাঠান তিনি। তাঁর কথায়, কখন যে এই মহামারীর হাত থেকে মানুষ রক্ষা পাবে জানি না। প্রায় প্রতিটি পরিবারে স্বজন হারানোর কান্না কখনো থামবে কিনা জানি না।



১৯৯৩ সালে ’চাঁদনী রাতে’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় প্রথমবারের মতো পা রাখেন শাবনূর। তবে ২০০৫ সালে ’দুই নয়নের আলো’ সিনেমায় অভিনয় করে সবার নজরে আসেন তিনি। এমনকি এ সিনেমার জন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন তিনি। তবে বর্তমানে ’বিউটি কুইন’ খ্যাত শাবানার মতো তিনিও অভিনয় জগত থেকে অনেক দুরে রয়েছেন।