বিশ্বের অন্যান্য দেশের পাশাপাশি গত মার্চ মাস থেকে বাংলাদেশেও হানা দেয় শক্তি শালি করোনা ভাইরাস। যা তাণ্ডবে দেশে প্রথম দিকে প্রভাব না পড়লে সম্প্রতি দেশের অর্থনৈতিক এবং কর্মসংস্থানের পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজেও বাধা প্রতিবন্ধকতা দেখা দিয়েছে। তবে এ সকল বাধা প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশের জন্য এবার বড় সুখবর বিশ্বব্যাংক থেকে।
জানা গেছে, বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় সড়ক নেটওয়ার্ক উন্নয়ন ও ডিজিটাল সংযোগ উন্নয়নে ৫০ কোটি ডলার বা ৪ হাজার ২৫০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। এই ঋণের সুদের হার ২ শতাংশ। চার বছরের রেয়াতকালসহ ৩৪ বছরে বাংলাদেশকে ঋণটি পরিশোধ করতে হবে।

বুধবার ঋণ অনুমোদন দেয় ব্যাংকটির বোর্ড। ’ওয়েস্টার্ন ইকোনমিক করিডর অ্যান্ড রিজিওনাল এনহ্যান্সমেন্ট ফেইজ-১’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নে এ অর্থ ব্যয় করা হবে।

সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো সংস্থাটির এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই ঋণ পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাজুড়ে যশোর-ঝিনাইদহ করিডর ধরে সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। এই অর্থে বিদ্যমান ১১০ কিলোমিটার দুই-লেন মহাসড়ক ভোমরা-সাতক্ষীরা-নাভারন ও যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে। এতে নিরাপদে সড়ক নেটওয়ার্ক স্থাপন করা সম্ভব হবে। এছাড়া পশ্চিমাঞ্চলে জলবায়ু সহনশীল চার-লেন মহাসড়কটি সরকারের ২৬০ কিলোমিটার অর্থনৈতিক করিডর উন্নয়নের যে লক্ষ্য রয়েছে তা পূরণে ভ’মিকা রাখবে। এর ফলে পশ্চিমাঞ্চলের ২ কোটি মানুষ উপকৃত হবে।

বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন বলেন, বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলটি কৃষি ও প্রাকৃতিক পণ্যসমৃদ্ধ এলাকা। এছাড়া আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রবেশদ্বার হওয়ার প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। এই অর্থে যে সব সড়কের উন্নয়ন হবে তা জেলাগুলোর অর্থনীতিতে উদ্দীপনা, খামারগুলোকে বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করতে ব্যাপক ভ’মিকা রাখবে। এইভাবে করিডর বরাবর বাণিজ্য, ট্রানজিট এবং পণ্য সরবরাহ বাড়িয়ে এই অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সহায়ক হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কর্মসূচির প্রথম ধাপটি যশোর এবং ঝিনাইদহের মহাসড়কের ৪৮ কিলোমিটার উন্নয়ন করা হবে। এছাড়া ৬০০ কিলোমিটার গ্রামীণ সংযোগ সড়ক উন্নয়ন এবং ৩২টি শহরের বাজার বা গ্রোথ সেন্টার উন্নয়ন করা হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও প্রকল্পের টাস্ক দলের নেতা রাজেশ রোহাতগি বলেন, এটি ভবিষ্যতে যে কোনো মহামারী বা সংকটের জন্য জরুরি প্রস্তুতি বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশের দুটি মূল পরিবহন সংস্থা সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। এমনকি কোভিডপরবর্তী সময়েও প্রকল্পটি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে ভ’মিকা রাখবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ’ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিষয়টি বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্পটির আওতায় হাইওয়ে ধরে ফাইবার অপটিক ক্যাবলগুলো নির্ভরযোগ্য এবং সাশ্রয়ী মূল্যের ইন্টারনেট অ্যাক্সেস সরবরাহ করতে সক্ষম করা হবে, যা জরুরি প্রতিক্রিয়া এবং ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতার জন্য কোভিড-১৯ মহামারীর মতো সংকট কাটাতে ভূমিকা রাখবে। কেননা কোভিড ১৯ মহামারীটি চাকরি ও আয় হ্রাসের কারণে দরিদ্রদের ওপর মারাÍক আঘাত হেনেছে। এই ধাক্কা থেকে তাদের পুনরুদ্ধারে সহায়তা করার জন্য প্রকল্পটি শ্রমনির্ভর কাজে নিযুক্ত করে ঝুঁকিপূর্ণ গ্রামীণ জনগণের তাৎক্ষণিক সামাজিক সুরক্ষা এবং জীবন-জীবিকার ক্ষেত্রে সহায়তা করবে।

উল্লেখ্য, মহামারী কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাবে দেশে এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে ১ হাজার ৫৮২ জন, এবং আক্রান্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ৬৬০ জন। তবে মোট আক্রান্তের মধ্যে থেকে এখন পর্যন্ট সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৯ হাজার ৬৬৬ জন। তবে সরকার সর্বত্র চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এই অদৃশ্য শক্রুকে পরাজিত করতে।