করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সেবা দেওয়া কথা বলে সরকারের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে ছিলেন রাজধাণী ঢাকার রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও পরিচালক মোহাম্মদ সাহেদের সাথে। কিন্তু তিনি সরকারের সাথে করা এ চুক্তি ভঙ্গ করে করোনা পরীক্ষার ভুল রিপোর্ট দিয়ে কোটি কোটি হাতিয়ে নেনে তিনি। সম্প্রতি এমন আরও অভিযোগে গত ১৫ জুলাই সাতক্ষীরা থেকে তাকে আটক করে র‍্যাব।

তবে রিজেন্ট হাসপাতালকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কীভাবে একের পর এক সুযোগ সুবিধা দিয়ে গেছে, তা নিয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে গোয়েন্দা সংস্থা চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে। তাদের অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, সাহেদকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সদ্যসাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ অত্যন্ত ক্ষমতাবান ব্যক্তি বলতেন। তিনিই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাহেদকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লোক হিসেবে। তিনি বলেছিলেন যে, সাহেদ অত্যন্ত ক্ষমতাবান এবং সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। এভাবেই সাহেদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আধিপত্য বিস্তার করে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেছেন যে, অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালকের কক্ষে তাদের ডেকে পাঠানো হতো এবং সাহেদকে একজন বিজ্ঞ সুধীজন হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হতো। এটাও বলা হতো যে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, তিনি যেভাবে বলেন, সেভাবেই কাজ করতে হবে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন রিজেন্ট কেলেঙ্কারি নিয়ে যে তদন্ত করছে, সেই তদন্তে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানাও স্বীকার করেছেন যে, সাহেদের ব্যাপারে তার উপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। এ কারণেই তিনি সাহেদের ব্যাপারে প্রথম অভিযোগ নিপসম থেকে পাওয়ার পরেও রিজেন্টের করোনা পরীক্ষার জালিয়াতি বন্ধ করেননি।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, সাহেদ সাবেক ডিজি আবুল কালাম আজাদকে অভয় দিতেন এবং তার চাকরি অব্যাহত থাকবে বলে আশ্বস্ত করতেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিভিন্ন কূটনৈতিক ব্যক্তির নাম বলে বলতেন যে, তাদের সাথে কথা হয়েছে এবং তাদের আস্থায় ডিজি আছেন। এ কারণেই সাবেক ডিজি আবুল কালাম আজাদ তাকে বেশি করে খাতির যত্ন করতেন।

সাহেদের সঙ্গে কেবল চুক্তিই করেননি সাবেক ডিজি তাকে সিএমএসডি থেকে অবৈধভাবে বেশকিছু সরকারি সরঞ্জামাদি রিজেন্ট হাসপাতালে ব্যবহারের জন্যেও দেওয়া হয়েছিল, যেটি ফৌজদারি কার্যবিধিতেও একটি অপরাধ।


উল্লেখ্য, করোনা পরীক্ষার নামে জালিয়াতি কারীর মূল হোতা মোহাম্মদ সাহেদ করিমকে প্রধান আসামি করে মোট ১৭ জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়। প্রথমে ৮ জনকে আটক করলেও পরবর্তীতে সাহেদসহ আরেক জনেক আটক করতে সক্ষম হয় র‍্যাব। বর্তমানে তারা সকলেই জেল হাজতে আছেন।