সম্প্রতি করোনা ভাইরাস পরীক্ষার নামে প্রতারনা এবং সরকারের সাথে চুক্তি ভঙ্গ করে জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গত ১৫ জুলাই সাতক্ষীরা থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার সময়ে র‍্যাবের হাতে বন্দি হন বহুরুপী প্রতারক রাজধাণী রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও পরিচালক মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করমকে। বর্তমানে আদালতের আদেশে তাকে রিমান্ডে হস্থান্তর করা হয়েছে।
তবে এদিকে প্রতারণার জাদুকর ঈ সাহেদের দাপটে তটস্থ থাকতেন পুলিশ কর্মকর্তারা। তদবির না শুনলে অনেক কর্মকর্তাকে উল্টো ফাঁসিয়েছেন তিনি। রিমান্ডে থেকেও অব্যাহত রয়েছে তার সুনিপুণ প্রতারণার চেষ্টা। তদন্তসংশ্লিষ্ট অনেককে লোভনীয় প্রস্তাব দিয়ে বসেছেন বহুরূপী এই ভয়ঙ্কর প্রতারক। অন্যদিকে, করোনা টেস্ট না করে সার্টিফিকেট দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে রিজেন্ট হাসপাতালের বিরুদ্ধে করা মামলায় সাহেদের অন্যতম সহযোগী তরিকুল ইসলাম ওরফে তারেক শিবলী দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদের আদালতে এ জবানবন্দি দেন। এ ছাড়া অস্ত্র মামলায় সাহেদকে সাত দিনের রিমান্ডে চাইবে র‌্যাব। এর আগেই তাকে আদালতের মাধ্যমে কারা কর্তৃপক্ষের সহায়তায় সাতক্ষীরা কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে র‌্যাব সদর দফতর।

সূত্রে জানা গেছে, রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা পরিচয়ে ফোন দিয়ে অবৈধ সুবিধা চাইতেন দেশের বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্বে থাকা ওইসব পুলিশসহ বিভিন্ন ক্যাডারের কর্মকর্তার কাছে। তবে তার তদবির না শুনলেই অনেক কর্মকর্তার ক্ষতিও করেছেন সাহেদ। ওপরমহলের কাছে উল্টো ওইসব কর্মকর্তার বদনাম করে তাদের বিভাগীয় শাস্তি কিংবা দুর্গম অঞ্চলে বদলি করিয়েছেন। ওই যাতনা বয়ে বেড়াচ্ছেন এখনো অনেক কর্মকর্তা। তদন্তসংশ্লিষ্টদের কাছে এরই মধ্যে অনেক ভুক্তভোগী কর্মকর্তা তাদের অভিযোগ জানিয়েছেন।

সূত্র আরও বলছেন, দফায় দফায় সাহেদকে জিজ্ঞসাবাদে ব্যস্ত রাখলেও এখনো তার অনেক তথ্যের বিষয়ে বিভ্রান্তিতে রয়েছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। কোনটা সত্য আর কোনটা মিথ্যাÑ এ নিয়েও রয়েছেন দ্বিধায়। অন্যদিকে, সাহেদের কাছে পাওনাদারদের কোনো সদুত্তর দিতেও পারছেন না তদন্ত তদারকি কর্মকর্তারা। আদালতের বিচারিক ব্যবস্থা শেষ করে আদৌ তারা পাওনা টাকা ফিরে পাবেন কিনা, এমন হতাশায় দিনাতিপাত করছেন অনেক ভুক্তভোগী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ’সাহেদ ভারত থেকে পড়াশোনা করেছেন এমন দাবি করলেও আমার তা বিশ্বাস হয় না। এইচএসসি কোথা থেকে পাস করেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, ইংলিশ মিডিয়াম থেকে। তবে তার অনেক ইংরেজি উচ্চারণই ঠিকমতো হয় না। তিনি পুরোপুরি এক ভ-। আমার কয়েকজন কনস্টেবলকেও তিনি নানা অফার দিয়ে বসেছিলেন।’

শিবলীর স্বীকারোক্তি : আদালত সূত্রমতে, আগে দুই দফায় ১২ দিনের রিমান্ড শেষে শিবলীকে গতকাল আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত সংস্থা র‌্যাব। শিবলী স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ডের আবেদন করা হয়। পরে আদালত তার জবানবন্দি রেকর্ড করে। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গত ৯ জুলাই ভোরে শিবলীকে রাজধানীর নাখালপাড়া থেকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। পর দিন ১০ জুলাই তার পাঁচ দিন এবং ১৬ জুলাই আরও সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লে. কর্নেল আশিক বিল্লাহ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সাহেদকে জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। তার অনেক তথ্যই যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন। তবে শিগগিরই র‌্যাব-৬-এর মাধ্যমে সাতক্ষীরা আদালতে অস্ত্র মামলায় তার সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।


উল্লেখ্য, করোনার পরীক্ষার সাধারন মাণুষের সাথে প্রতারনা করে তাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার দায়ে রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদকে প্রধান আসামি করে মোট ১৭ জনের নাম প্রকাশ করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। প্রথমে ৮ জনকে আটক করে পুলিশ। এরপর সাহেদসহ আরেক জনকে আটক করতে সক্ষম হয় প্রশাসন।