সম্প্রতি ফরিদপুর জেলা প্রশাসককে (ডিসি) প্রকাশ্যে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ কঠোর হুশিয়ারি দেওয়া নানা সমালোচনায় জড়ি্যে পড়েছেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন। এছাড়াও ইউএনও’এর ফোনে ফোন করে দুর্ব্যবহার করার একটি অডিও ক্লিপ ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে শুরু হয় তোলপাড়। তবে এবার এ বিষয়টি অস্বীকার করে মুখ খুলেছেন সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরী। তিনি বলেন, আমি যদি নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে থাকি, তাহলে জেলা প্রশাসকও আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন।
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সনের বিরুদ্ধে। তবে, এ বিষয়ে আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য।

সংবাদ সম্মেলনে নিক্সন চৌধুরী বলেন, ’সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার বক্তব্য এডিট করে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এ কাজ করা হয়েছে। ডিসির নির্দেশেই এসব কল রেকর্ড প্রকাশ করা হয়েছে।’ প্রকাশিত কল রেকর্ডের ভয়েস তার না বলেও দাবি করেন এমপি নিক্সন। জেলা প্রশাসক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ভঙ্গ করেছেন উল্লেখ করে ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানান। এছাড়া যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে তার কথোপকথোনের অডিও রেকর্ড প্রকাশ করা হয়েছে তার সঙ্গে মধুর এবং ভাই-বোনের সম্পর্ক বলেও দাবি করেন নিক্সন চৌধুরী।

তার বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলেও মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন দাবি করেন, তিনি নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেননি। বলেন, ’আমি যদি নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে থাকি তাহলে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসকও আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন।’

নির্বাচনের আগের দিন বেশ কয়েকজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে নিক্সন চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, ’নির্বাচনের আগের রাতে ১৩ জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়। বিএনপির প্রার্থীকে জেতানোর জন্যই অতিরিক্ত ১৩ জন ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়োগ দেয়া হয়।’


তবে এদিকে ইতিমধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা জানিয়েছেন, ডিসিসহ নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের গালিগালাজ করার অভিযোগে এমপি নিক্সনের বিরুদ্ধে যথা সম্ভব আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এ সময়ে তিনি আরও বলেন, যদি মামলা দেওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।