১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই মহান ভাষন যেন এখনও ১৮ কোটি বাঙালির মুখে মুখে, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তি সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। তার কঠোর পরিশ্রম ও আ/ত্ম/ত্যা/গের ফলে যে বাংলাদেশের সৃষ্টি হয়েছে তাক কি করে ভুলে যাবে এ দেশ ও দেশের মানুষ। তবে সাধারন মানুষের পাশাপাশি তার কোনো সৃতি ভুলতে পারেননি সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্টপোষক বেগম রওশন এরশাদ এমপি। গতকাল জাতীয় সংসদে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন তিনি।
রোববার জাতীয় সংসদে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কর্মময় ও বর্ণাঢ্য জীবনের ওপর সাধারণ আলোচনায় ১৯৭৪ সালের শেষ দিকের স্মৃতিচারণ করে রওশন এরশাদ বলেন, "এই মহামানবের সঙ্গে একই প্লেনে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে থাকা কর্নেল জামিল এসে আমাকে বলেন, ভাবি বঙ্গবন্ধু আপনাকে ডাকছেন। আমি বলি- ’যাবো না?’ কর্নেল জামিল পুনরায় যেতে বললে, বঙ্গবন্ধুর কাছে গেলাম। বঙ্গবন্ধু তখন শুয়েছিলেন। আমাকে দেখে উঠে বসতে গেলে বললাম, আপনি উঠবেন না। শুয়ে থাকেন, আমি আপনার মাথার কাছে বসছি। তাঁর মাথায় হাত বুলিয়ে দিলাম। তিনি আমার মা-বাবার কথা জিজ্ঞাসা করলেন। আমার স্বামীর কথা জিজ্ঞাসা করলেন। আমাকে প্রাণভরে আশীর্বাদ করলেন। সেদিন দেখা না হলেও অনেক কিছুই অজানা থাকতো।"

বঙ্গবন্ধু নানান সাহসী বক্তব্য তুলে ধরে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমি যদি কখনো পাকিস্তানের শাসনতন্ত্র প্রণয়নের সুযোগ পাই তাহলে সেই শাসনতন্ত্রে এই প্রদেশের নাম হবে বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশ আমরা পেয়েছি।

রওশন এরশাদ তার বক্তৃতায় আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জন্য তার অনুভূতি ছিল অত্যন্ত গভীর। তার এই গভীর অনুভূতি দেখে আশ্চার্য হয়ে যেতাম। গরিব-দুঃখী মেহনতি মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য তিনি আজীবন লড়াই করেছেন।

বঙ্গবন্ধুকে হারানো কষ্টের কথা তুলে ধরে রওশন এরশাদ বলেন, বঙ্গবন্ধুকে /নি/র্ম/ম/ভা/বে /হ///ত্যা/ না করলে তাহলে শতায়ু হতেন হয়তো। তাইতো কেবলই বিখ্যাত একটি গান মনে হয়, যদি রাত পোহালে শোনা যেত বঙ্গবন্ধু /ম//রে/ নাই.... আমরা পেতাম ফিরে জাতির পি/তা, বিশ্ব পে/তো ফিরে এক মহান নেতা।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর কথা বলতে গেলে আমার কান্না চলে আসে।বঙ্গবন্ধুর আকাঙ্ক্ষা থেকে অনেক দূরে। তবে আশার কথা, তার যে রাজনৈতিক দর্শন তার প্রতিফলন দেখতে পাই আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে। প্রধানমন্ত্রী দিনরাত প্রায় ২৪ ঘন্টা কাজ করে যাচ্ছেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা সফলতা কামনা করি।

এছাড়াও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গরাও দাবি করে আসছেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যতোটা দেশের মানুষের ও দেশের উন্নয়ন হয়েছে তা কোনো সরকারের আমলে হয়নি। একটা সময়ে রাত হলে মানুষকে হ্যারিকেন জালিয়ে থাকতে হত, কিন্তু এখন প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছে গেছে। আজ দেশের মানুষ তাদের প্রাপ্ত অধিকার পেয়েছে।