দুর্ঘটনাকে রুখার সামর্থ কাররই নেই, কেননা কেউ জানে না, কোথায় কখন তাকে কোনো দুর্ঘটনার কবলে হতে হবে। তবে এটা রুখতে না পারলেও এবার এমন একটি আইন পাশ করা হয়েছে যাতে বিমান দুর্ঘটনায় কবলিত ব্যক্তির পরিবার-পরিজনদের দুঃখ কিছুটা হলেও লাঘব করা যাবে। জানা গেছে, এখন থেকে উড়োজাহাজে কোনো যাত্রী /মা/রা/ গেলে নিহতের স্বজনরা ক্ষতিপূরণ হিসাবে পাবে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা।
মঙ্গলবার, এই বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আকাশ পথ পরিবহণ বিল পাশ হয়েছে। বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। পরে তা কন্ঠভোটে পাস হয়।

বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বলেন, কনভেনশনের আলোকে নতুন আইন না হওয়ায় কোনো দু/র্ঘ/ট//নার জন্য বর্তমানে প্রচলিত আইনে প্রাপ্ত প্রাপ্ত /ক্ষ/তি/পূরণের পরিমান খুবই কম এবং তা আদায়ের পদ্ধতি অষ্পষ্ট, সময়সাপেক্ষ ও জটিল। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য জন্য আকাশে চলাচলকারী যাত্রীর অধিকার সুরক্ষা ও মালামাল পরিবহন সুনিশ্চিতকরণ, যাত্রীর /মৃ//ত্যু/র কারণে পরিবারকে প্রদেয় ক্ষ/তি/পূ/রণ প্রায় ৬ গুণ বৃদ্ধি এবং আদায় পদ্ধতি সহজ করতে আইনটি প্রয়োজন।


এর আগে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বিলের ওপর দেয়া জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে পাঠানো এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলোর নিষ্পত্তি করেন।

বিদ্যমান বিধানে আকাশ/পথে পরিবহনের সময় যা/ত্রীর /মৃ/ত্যু/ বা //আ/ঘা/ত/প্রা/প্ত হলে ক্ষ/তি/পূরণ ছিল ২০ লাখ ৩৭ হাজার ৬০০ টাকা পান। নতুন আইনে সেটা বেড়ে এক কোটি ১৭ লাখ ৬২ হাজার ৩৩৪ টাকা হচ্ছে।

আকাশপথে পরিবহনের ক্ষেত্রে কোনো দু/র্ঘ/ট/নায় /যা/ত্রীর/ /মৃ/ত্যু/ বা /আ//ঘা//তপ্রা/প্ত হলে এবং ব্যাগেজ ন/ষ্ট /বা হা/রা/নোর ক্ষেত্রে ওয়ারশ কনভেনশন-১৯২৯ এর আলোকে দেশে বর্তমানে প্রচলিত ’দ্য ক্যারেজ বাই এয়ার অ্যাক্ট-১৯৩৪’, ’দ্য ক্যারেজ বাই এয়ার (ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন) অ্যাক্ট-১৯৬৬’ এবং ’দ্য ক্যারেজ বাই এয়ার (সাপ্লিমেন্টারি কনভেনশন) অ্যাক্ট-১৯৬৮ আছে।

এই তিনটি আইনের আলোকে /প্রা//ণ//হা/নি, আঘাত ও ব্যাগেজ /নষ্ট বা হা/রা//নো/র ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ কম ছিল। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে ১৯৯৯ সালে মন্ট্রিল কনভেনশন গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ওই কনভেনশনে ১৯৯৯ সালেই স্বাক্ষর করে।

১৯৯৯ সালে মন্ট্রিল কনভেনশন গ্রহণের পর দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও বাংলাদেশে তা অনুসমর্থন হয়নি। মন্ট্রিল কনভেনশনটি অনুসমর্থন করে নতুন আইন প্রণয়ন করলে মু///ত্যু,/ আঘাত ও /মা/লা/মা/ল /হারা/নো বা নষ্ট হওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ ক্ষ/তিপূ//রণ পাওয়া সহজ হবে। মন্ট্রিল কনভেনশন রেটিফিকশন করে প্রণীত খসড়া আইনটি অনুমোদিত হলে যাত্রীর /মৃ/ত্যু/ বা আঘাত, ব্যাগেজ ও কার্গোর ক্ষতি বা হারানোর ক্ষেত্রে /ক্ষ/তি//পূ/রণের হার পূর্বের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পাবে।

নতুন আইন কার্যকর হলে ফ্লাইট বিলম্বের কারণে পরিবহনকারীর দায় ২০ ডলারের পরিবর্তে পাঁচ হাজার ৭৩৪ ডলার, ব্যাগেজ বিনষ্ট বা হা/রা/নো/র জন্য প্রতি কেজিতে ২০ ডলারের পরিবর্তে এক হাজার ৩৮১ ডলার এবং কার্গো বিমানের মালামাল বিনষ্ট বা হারানোর জন্য প্রতি কেজিতে ২০ ডলারের পরিবর্তে ২৪ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

যাত্রীর /মৃ/ত্যু/র/ ক্ষেত্রে তার সম্পত্তির বৈধ প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তিদের মধ্যে এ আইনের বিধানের আ/লো/কে ক্ষতিপূরণের অর্থ ভাগ করা যাবে। সংশ্লিষ্ট উড়োজাহাজ পক্ষ বা বীমাকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে অথবা আদালতের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ আদায় করা যাবে।


অন্যান্য দুর্ঘটনা থেকে বিমান দুর্ঘটনা কিছুটা ভ/য়া/ব/হ হয়ে থাকে, কেননা বিমান দুর্ঘটনায় মানুষের বেঁচে থাকার আশা খুবই কম থাকে। যাত্রীদের বড় অংশেই /মা/রা/ যায় এ দুর্ঘটনায়। এছাড়া এমনও দেখা গেছে, কোনো কোনো বিমান দু/র্ঘট/নায় কে/উ বেঁ/চে নেই।