গত ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের শেষের দিকে চীনের উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়া মহামারী করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে রীতিমতো বিপর্যস্ত সারাবিশ্ব। বিশেষ করে, এখন পর্যন্ত প্রায় দুই শতাধিক দেশে ম’র’ন এ ভাইরাসের সংক্রমন ঘটায় দিন দিন আক্রান্তের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, অন্যদিকে থামছে না প্রাণহানির সংখ্যা। ফলে এখন একটাই শব্দ সকলের কাছে আস্থাজনক। আর তা হলো ভ্যাকসিন। তাউ ভ্যাকসিনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মীরজাদি সেব্রিনা ফ্লোরা জানিয়েছেন, ভ্যাকসিন প্রয়োগের পর মাথা ঝিমঝিম করা, ব্যথা, বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে। তবে সেটা ২ থেকে ৩ ভাগের বেশি না। যে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রোধে ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম কাজ করবে বলেও তিনি জানান। আজ সোমবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। দেশে ২১ থেকে ২৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রথম ধাপে সেরামের ৫০ লাখ ডোজ করোনা ভ্যাকসিন এসে পৌঁছাবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ভ্যাকসিন এসে পৌঁছানোর ৭ দিন পর থেকে প্রয়োগ শুরু হবে।
এদিকে, দেশে প্রথম দফায় কারা করোনার টিকা পাবেন তাদের তালিকাও প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তালিকানুযায়ী কোভিড-১৯ স্বাস্থ্যসেবায় সরাসরি সম্পৃক্ত সরকারি, বেসরকারি ও প্রাইভেট স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রথমে টিকা পাবেন। এরপর রয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাষ্ট্র পরিচালনায় কর্মকর্তা-কর্মচারী, সংবাদমাধ্যমকর্মী ও জনপ্রতিনিধিরা।

এরপর বয়স অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভার কর্মচারী, ধর্মীয় প্রতিনিধি, মৃতদেহ সৎকার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি, জরুরি পানি-গ্যাস-পয়ঃনিষ্কাশন-বিদ্যুৎ-ফায়ার সার্ভিস-পরিবহন কর্মী, স্থল-নৌ-বিমান বন্দর কর্মী, প্রবাসী শ্রমিক, জেলা-উপজেলায় জরুরি জনসেবায় সম্পৃক্ত সরকারি কর্মচারী, ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্বল্প রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জনগোষ্ঠীরা করোনার ভ্যাকসিন পাবেন। এরপর ধীরে ধীরে দেশের সবাইকে করোনার ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হবে।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, প্রথম ধাপে ২৫ লাখ নয়, ৫০ লাখ ডোজই প্রয়োগ করা হবে। আগে সিদ্ধান্ত ছিল, ৫০ লাখের ২৫ লাখ দেওয়া হবে কিন্তু নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৫০ লাখই প্রয়োগ করা হবে। এছাড়া ৬৪ জেলার মধ্য ২৮টি জেলায় ভ্যাকসিন সংরক্ষণাগার তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সাড়ে ৭ হাজার কেন্দ্র থেকে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।


উল্লেখ্য, করোনার তাণ্ডবে দেশে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা দাড়িয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ৩০২ জন, এবং আক্রান্তের মধ্য থেকে সুস্থ হয়েছে ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৭১৮ জন। প্রাণহানির সংখ্যা দাড়িয়েছে ৭ হাজার ৮০৩ জন। দেশে বর্তমানে করোনায় সংক্রমিত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৪৭ হাজার ৭৮১ জন।