মহামারী করোনাভাইরাসের তৃতীয় ঢেউ আসতে না আসতেই ফের লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে আ/ক্রা/ন্ত ও মৃ/ত্যু/র সংখ্যা। আর তাই এ মরন এ ভাইরাসের নতুন ধাক্কা সামলাতে ইতিমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। আর এরই আলোকে বাংলাদেশেও এ ভাইরাসের তাণ্ডব শুরু হতেই সরকার চলাফেরা ও লোক সমাগমের ক্ষেত্রে নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করতে যাচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। রবিবার রাতে সংবাদ মাধ্যমকে তিনি এমনটাই জানিয়ে বলেছেন, সোমবারই দেশের কিছু এলাকার জন্য এ ধরনের ঘোষণা ’আসতে পারে’।
"সোমবার (আজ) হয়ত বিভিন্ন টাইপের লকডাউনের ঘোষণা আসবে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি- এসব এলাকায় যাওয়া-আসা বন্ধ করা, বিয়ে শাদী অনুষ্ঠান, ওয়াজ মাহফিল, পিকনিক এগুলোও বন্ধ করা… যেখানে জনসমাগম হয় সেসব অনুষ্ঠানে বিধিনিষেধ আসতে পারে।"

মন্ত্রী জানান, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কিছু প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

"আমাদের পক্ষ থেকে যে প্রস্তাব গেছে। এতে অনেকগুলো প্রস্তাব ছিল। সেগুলো দেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা জারি করবেন। তার মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের লকডাউন থাকবে।"

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কিছু প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, ’আমাদের পক্ষ থেকে অনেক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সেগুলো দেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা জারি করবেন। তার মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের লকডাউন থাকবে।’

তিনি বলেন, ’আগে থেকেই বলেছি, আমরা এখন জেনেশুনেই আক্রান্ত হচ্ছি। আমাদের নিজেদেরই সতর্ক হওয়া উচিত। তা না হলে পরে নিজের এবং পরিবারের ক্ষতি হবে।’

এর আগে গত রোববার স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সারাদেশে সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও অন্যান্য জনসমাগম নিষিদ্ধ ঘোষণাসহ ২২ দফা প্রস্তাবনা পাঠানো হয়। এর ভিত্তিতেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাবনা পাঠানো হয়।

উল্লেখ্য, করোনা মোকাবিলায় প্রতিবেশী ভারতসহ বিভিন্ন দেশ লকডাউনে গেলেও বাংলাদেশ সে পথে হাঁটেনি। তবে গত বছরের মার্চে ধাপে ধাপে দুই মাসেরও বেশি সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।

২০২০ সালের মার্চে করোনা সংক্রমণ দেখা দেয়ার পর তা নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে।

টানা দুই মাস নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় সংক্রমণের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকা, করোনা প্রতিরোধী গণটিকা শুরু হওয়ার পর যখন স্বস্তির আশা করা হচ্ছিল, তখন দুই সপ্তাহ ধরে আবার তা ঊর্ধ্বমুখী।

রোববার ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪ হাজারের কাছাকাছি। গত ৯ মাসের মধ্যে এটি সবচেয়ে বেশি। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ২৪ ঘণ্টায় ৩৫ জনের /মৃ/ত্যুর ত/থ্য জানানো হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী, পরীক্ষার বিবেচনায় সংক্রমণের হার টানা দুই সপ্তাহ ৫ শতাংশের নিচে নামার পর আবার দুই সপ্তাহ ৫ শতাংশের বেশি হলে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ বলা যায়। বাংলাদেশে এই পরিস্থিতি বিরাজ করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বিতীয় ঢেউয়ের কথা জানানো হয়নি। যদিও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দ্বিতীয় ঢেউয়ের কিছু কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।



উল্লেখ্য, দেশে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত সংখ্যা দাড়িয়েছে ৫ লাখ ৯৫ হাজার ৭১৪ জন, এর মধ্যথেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৬্৪১ জন। এবং মরন এ বাইরাসের বিষাক্ত ছোবলে প্রাণ হারিয়েছেন ৮ হাজার ৯০৪ জন। এই মুহুর্তে করোনায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৫১ হাজার ১৬৯ জন।