বিশ্বের অন্যান্য্য দেশের পাশাপাশি প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ বা করোনা ভাইরাসের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে নিউইয়র্ক সিটিও। করোনার তাণ্ডবে সেখানে এমন পরিস্থিতি হয়েছিলে যে হাসপাতালে কোনো রোগী ভর্তি নেওয়ার মতো জায়গা ছিল না। তবে বর্তমানে সেখানে স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করতে শুরু করেছে। সেই সাথে নিউইয়র্ক সিটির প্রবাসীরা ধীরে ধীরে জেগে উঠছেন।

স্বাস্থ্যবিধি মেনেই স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অংশ হিসেবে গত রোববার বিবাহ-উত্তর প্রীতিভোজ অনুষ্ঠিত হলো। মার্চের মাঝামাঝিতে সবকিছু লকডাউনে যাবার পর সম্ভবত এই প্রথম ঘটা করে প্রবাসীরা একটি চমৎকার পার্টিতে মিলিত হলেন। শিশুরাও ছিল উৎফুল্ল।

নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসে ’ইটসজি’ নামক একটি চায়নিজ রেস্টুরেন্টের ব্যাকইয়ার্ডে খোলা জায়গায় চেয়ার-টেবিল বসিয়ে সিলেট ও চাঁদপুরের প্রবাসীরা জড়ো হন নূরে জান্নাত সায়মা এবং মিনহাজ মিতুলের বিবাহ উত্তর প্রীতিভোজে। টানা ৫ মাস পর সকলেই নতুন পোশাকে পরে এক আমেজ তৈরি করেছিলেন।

প্রিয়-পরিচিতজনরা পুনরায় একত্রিত হতে পেরে বিষন্নতার ছাপ দূরে সরিয়ে রাখতেও সচেষ্ট ছিলেন। তবে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল কুশলাদি বিনিময়ের। করোনায় যারা মারা গেছেন, তাদের জন্যেও গভীর শোক উচ্চারিত হয় আনন্দঘন এই আয়োজনে।
গত জুন-জুলাইতে ডজনখানেক বিয়ের কর্মসূচি ছিল। সংশ্লিষ্টরা বিলাসবহুল হোটেলের বলরুম ভাড়াও করেছিলেন। কেউ কেউ দাওয়াতপত্র আগেই বিতরণ করেন। কিন্তু সবকিছু পণ্ড হয়ে গেছে করোনা ভীতিতে। এমনকি, হলরুম বুকিংয়ের জন্যে আগাম যে অর্থ দেওয়া হয়েছিল সেগুলোও ফেরত পাননি কেউই।

হোটেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে সময় ভালো হলে অন্য কোনো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সে অর্থের সমন্বয় ঘটানো হবে। নিউইয়র্ক অঞ্চলে করোনার সংক্রমণ আশাব্যঞ্জকভাবে কমে যাওয়ায় ঝুলে থাকা বিয়ের অনুষ্ঠানগুলো সেপ্টেম্বরের মধ্যেই সম্পন্ন করার কথা ভাবছেন অভিভাবকেরা।


উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক সিটিতে প্রাণঘাতী নভেল করোনা ভাইরাসের বিষাক্ত ছোবলে প্রাণ হারিয়েছেন ২৩ হাজার ৫৮০ জন। আর এ প্রাণ হারানোর মধ্যে আড়াই শতাধিক রয়েছে বাংলাদেশি। এবং আক্রান্ত রোগী ২ লাখ ৩৩ হাজারের মধ্যে ৫ সহস্রাধিক রয়েছে প্রবাসী।