সম্প্রতি নতুন শ্রমনীতি আইন সংস্কারের ঘোষণা দিয়ে শ্রমিকদের এক অন্যতম দৃষ্টান্ত গড়লো কাতার। জানা যায়, সম্প্রতি এ ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, কাতার থেকে শ্রমনীতি আইন সংস্কারের ঘোষণা দেওয়ার ফলে শ্রমিকরা যার যার মতো করে তাদের কাজ বেছে নিতে পারবে, এবং একই সাথে তাদের মজুরি ও শ্রম অধিকার কোনো দিক থেকেই বৈষম্য সৃষ্টি হবে না।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার তাদের শ্রম আইনে যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে। পরিবর্তিত আইন অনুযায়ী, ন্যূনতম মজুরি ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১ হাজার রিয়াল বা প্রায় ২৩ হাজার টাকা করা হয়েছে।

৩০শে আগস্ট কাতারে নতুন শ্রমনীতি আইন সংস্কারের ঘোষণা দেন দেশটির আমির। আইন সংস্কারের কারণে নো অবজেকশন সার্টিফিকেট অর্থাৎ NOC ছাড়াই শ্রমিকরা এখন পছন্দমতো চাকরি বদলাতে পারবেন।সরকারি গেজেট প্রকাশের ছয় মাস পর কার্যকর হবে নতুন এই আইন। আইন সংস্কার হলে সাত দশকের পুরনো কাফালা পদ্ধতির অবসান হবে। আর বাংলাদেশিসহ সব অভিবাসী শ্রমিকের ভোগান্তিও কমে যাবে।

কাতার প্রবাসি গোপালগঞ্জ সমিতির সভাপতি মো. হাবিবুর রহমানর খুশি হয়ে বলেন কাফিলা পদ্ধিত আগের চেয়ে সহজ করা হয়েছে। ইচ্ছে করলে পছন্দ মতো সহজেই কাফিলা বদলাতে পারবে। শ্রমিকদররন ভুগান্তি থেকে মুক্তি পাবে।


অন্যদিকে শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি এক হাজার রিয়াল এবং বাসস্থান ও খাবার বাবদ আরো আটশ রিয়াল নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কোম্পানি শ্রমিকদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করলে এক হাজার রিয়েল বেতন পরিশোধ করতে হবে কোম্পানিকে।

কাতার আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবু রায়হান বলেন "শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি এক হাজার রিয়াল এবং বাসস্থান ও খাবার বাবদ আরো আটশ রিয়াল নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে কোম্পানি শ্রমিকদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করলে এক হাজার রিয়েল বেতন পরিশোধ করতে হবে কোম্পানিকে’।’

বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতারা মনে করেন নতুন এই আইনের কারণে ন্যায্য অধিকার পাবে প্রবাসীরা। অনেক প্রবাসী সন্তুষ্ট প্রকাশ করেন। বলেন এই বাস্তবায়ন হলে আমাদের শ্রম স্বার্থক হবে। বেশ কিছু প্রবাসি বলেন বলেন এমন আইনে মালিক শ্রমিকি সম্পর্কেরও উন্নতি হবে।

আল জাজিরার খবরে জানানো হয়েছে, আর দুই বছর পরই কাতারে বিশ্বকাপ ফুটবল অনুষ্ঠিত হবে। কাতার আয়োজনের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই দেশটিতে শ্রম ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ দৃষ্টি ছিল আন্তর্জাতিক মহলের। এর ধারাবাহিকতায় কাতারের শ্রম আইনে যুগান্তকারী এই পরিবর্তন এসেছে।


প্রায় সাড়ে ৪ লাখ বাংলাদেশি কাতারে নানা পেশায় নিয়জিত রয়েছেন। সুতরাং, সম্প্রতি দেশটি থেকে নতুন শ্রমনীতি আইন সংস্কারের ঘোষণা দেয়া এবং তা বস্তবায়ন হলে সেদেশে কর্মরত শ্রমিকদের মুখে হাসি ফুটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখন শুধু এ আইন বাস্তবায়নের অপেক্ষায় সবাই।