চীনের উহান প্রদেশ থেকে ছড়িয়ে পড়া মহামারী করোনাভাইরাসে দ্বিতীয় দেউ আসতে না আসতে ফের গোটা বিশ্বব্যাপী বাড়তে শুরু করেছে আক্রান্তের সংখ্যা। ইতিমধ্যে বিশ্বের দুই শতাধিক দেশে মরণ এ ভাইরাসের সংক্রমন ঘটায় এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত সংখ্যা ১৫ কোটিরও অধিক। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে যতদিন সামান্য জ্বর, সর্দি, কাশি, গলা খুসখুস, গলাব্যথা থাকে ততদিন করোনয় আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক যায়। ব্রিটেনের গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় এই তথ্য জানা গেছে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, একই সময়ে যদি দু’টি ভাইরাস মানব দেহকোষে ঢোকে তাহলে প্রাথমিকভাবে সার্স-কভ-২ ভাইরাসকে এক রকম জব্দ করে রাখে রাইনোভাইরাস। শরীরে ঢুকে খুব দ্রুত নিজেকে সক্রিয় করার কাজ শুরু করে দেয় রাইনোভাইরাস। আর তখন সার্স-কভ-২ ভাইরাসকে এটি সক্রিয় হয়ে ওঠার সুযোগটাই দেয় না। ফলে, মানব দেহকোষে ঢুকেও কিছুদিনের জন্য কার্যত নিষ্ক্রিয়ই হয়ে থাকতে বাধ্য হয় সার্স-কভ-২। সেই সময় রাইনোভাইরাসই শরীরে রাজত্ব চালায়।

এর আগে বিভিন্ন সংক্রমণের ঘটনায় দেখা গেছে, এমন অনেক ভাইরাস আছে, যেগুলো একই সময়ে মানব শরীরে ঢুকে একে অন্যের সঙ্গে মিলেমিশে থাকে। সেসব ভাইরাসই মানব দেহকোষে একই সঙ্গে বংশবৃদ্ধি করে, নিজেদের মতো করে আলাদা আলাদা কৌশলে। এসব ভাইরাস একে অপরের বংশবৃদ্ধিতে বাধা দেয় না। যেমন -’অ্যাডিনোভাইরাস’। এটি মানব দেহকোষে অন্যান্য ভাইরাসের সঙ্গে সহাবস্থান করে।

কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, ’ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস’ ও ’রাইনোভাইরাস’ মানব দেহকোষে ঢুকলে অন্য কোনো ভাইরাসকে বংশবৃদ্ধি করতে দেয় না। শরীরে রাইনোভাইরাসের ভূমিকা বুঝতে গবেষকরা একটি পরীক্ষা চালিয়েছেন। গবেষণার জন্য কৃত্রিমভাবে মানুষের একটি শ্বাসনালী তৈরি করা হয়। পরে তার মধ্যে একই সময়ে রাইনোভাইরাস ও সার্স-কভ-২ ভাইরাস ঢোকানো হয়। গবেষণার জন্য দুটি ভাইরাসই যাতে মানব দেহকোষে অবাধে বংশবৃদ্ধি করতে পারে তার সুযোগ করে দেওয়া হয়।

গবেষকরা দেখেন, মানব দেহকোষে দু’টি ভাইরাস ঢোকানোর পর প্রথম ২৪ ঘণ্টায় শুধুই বংশবৃদ্ধি ঘটায় রাইনোভাইরাস। স‌েই সময় সার্স-কভ-২ ভাইরাসকে রাইনোভাইরাস বংশবৃদ্ধি ঘটাতে দেয়নি। ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর সার্স-কভ-২ ভাইরাস বংশবৃদ্ধি করতে শুরু করে। কিন্তু তার পরেই সার্স-কভ-২ ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করে শরীর থেকে বের করে রাইনোভাইরাস।

মূল গবেষক গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পাবলো মুর্সিয়া বলেছেন, রাইনোভাইরাস সংক্রমণের পর মানব দেহকোষের যে প্রতিরোধী ব্যবস্থা গড়ে ওঠে, তা সার্স-কভ-২ ভাইরাসকে বংশবৃদ্ধি ঘটাতে দেয় না। ফলে সেই সময় করোনা সংক্রমণের সম্ভাবনাও কমে যায়।

তবে গবেষকরা অবশ্য এটাও জানিয়েছেন, এই লড়াইটা অবশ্য সাময়িক। কারণ রাইনোভাইরাস মানব শরীরে খুব বেশি দিন সক্রিয় থাকতে পারে না। তাই শরীরে সামান্য জ্বর, সর্দি,কাশি, গলা খুসখুস, গলাব্যথা বেশিদিন স্থায়ীও হয় না। তারপর শরীরে সার্স-কভ-২ ভাইরাসের আক্রমণ জোরালো হয়ে ওঠে। গবেষকদের মতে, এই বিষয়টিকে সার্স-কভ-২ ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে কাজে লাগানো যেতে পারে।


এছাড়া এখন পর্যন্ত যেহেতু বিশ্বের কোনো দেশই মরণ এ ভাইরাসের উল্লেখযোগ্য প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে পারেনি, সেহেতু এই মুহুর্তে মাস্ক ব্যবহারের পাশাপাশি সতর্কতামূলক নির্দেশনা মেনে চলা ছাড়া আর অন্য কোনো পথ নেই। একই সাথে নাক-মুখে হাত লাগানো থেকে বিরত থাকতে হবে। এবং অন্তত প্রতি ২০ সেকেন্ড ধরে ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে নিতে হবে।