মিজানুর রহমান ওরফে জুয়েল রানা নামে এক ছাত্রলীগ নেতার প্যান্ট চুরি করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ছড়িয়ে পড়তেই মুহুর্তেই ভাইরাল হয়। এমনকি প্যান্ট চুরির অভিযোগে তাকে ৩২০ টাকা জরিমানা গুনতে হয়েছে বলেও জানা গেছে। গতকাল শনিবার ১১ এপ্রিল) এ ঘটনাটি ঘটে রাজশাহীর তানোরের গোল্লাপাড়া বাজারের প্রদিপ সুপার মার্কেটে।
অভিযোগ উঠেছে, জুয়েল রানা ওই মার্কেটের গার্মেন্টস ব্যবসায়ী প্রসেনজিতের দোকান থেকে প্যান্টটি চুরি করেন। চুরির একদিন পরে সিসিটিভি ক্যামেরা ফুটেজে ধরা পরে বিষয়টি।

জানতে চাইলে ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল রানা বলেন, ’আমি প্যান্টটা চুরি করিনি। মজা করেছি। সন্ধ্যায় মজা করে পরের দিন সকালে ওই প্যান্ট পরে এসে টাকা দিয়ে দিয়েছি।’

তিনি আরও দাবি করেন, একজন অপরিচিত মানুষ আমাকে মার্কেটের পেছনে পানের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান। এরপর থেকে আমি আর কথা বলতে পারিনি। নেশা নেশা লাগছিল। বিষয়টি অনেকেই জেনে যাবে, তাই কথা না বলে প্যান্টটা নিয়ে যাই।’

আপনাকে সিসিটিভির ফুটেজে আর ১০টা মানুষের মতোই স্বাভাবিকভাবে হেঁটে যেতে দেখা গেছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

গার্মেন্টস ব্যবসায়ী প্রসেনজিৎ বলেন, শনিবার বিকেলের পর এই চুরের ঘটনা ঘটে। আমি দোকানে ছিলাম না। আর ছোটভাই দ্বীপ দোকানে ছিল। আমি প্যান্টটা দেখতে না পেয়ে দ্বীপকে জিজ্ঞাসা করি। সেও বলতে পারে না। এরপরে দোকানের অন্য সব জায়গায় খুঁজে দেখি। সেখানেও না পেয়ে পাশের একটি দোকানে সিসিটিভির ফুটেজ পর্যালোচনা করে চুরির ঘটনাটি দেখতে পাই এবং জুয়েল রানাকে শনাক্ত করা হয়। পরে ফোন দিলে তিনি আমাকে বলেন, ’ভাই, আমি বিষয়টি আপনাকে বলব বলব মনে করছিলাম। কিন্তু আপনিই ফোন দিলেন।’

’পরবর্তীতে জুয়েল রানা মার্কেটে আসেন। এসময় গোল্লাপাড়া বাজার বণিক সমিতির সভাপতি সারওয়ার ও সম্পাদক পাপুল সরকারের উপস্থিতিতে ৩২০ টাকা জরিমানা দেন।’

জানতে চাইলে গোল্লাপাড়া বাজার বণিক সমিতির সভাপতি সারওয়ারের মোবাইল ফোনে কল করা হলে বন্ধ পাওয়া যায়।



এদিকে এ ব্যাপারে রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেরাজুল ইসলাম মেরাজের কাছে জানতে চাইলে তিনি সংবাদ মাধ্যমকে জানান, তিনি ইতিমধ্যে এ বিষয়ে অবগত হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি তিনি। তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।