রাজনীতিকে পুজি করে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে নারীদের অসামাজিক কাজে বাধ্য করে আসছিলেন যুবলীগের সাবেক নেত্রী শামিমা নূর পাপিয়া। এছাড়াও সাধারন মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে হাতিয়ে নিতেন লাখ লাখ টাকা। আর এ সকল অভিযোগের আলোকে সহযোগীসহ গত বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয় তাকে।

এই মুহুর্তের কারাগারের চার দেয়ার মাঝেই দিন কাটছে তার। নিয়ম মেনে সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে কয়েদির পোশাক পরতে হয়। তিনিও (পাপিয়া) তাই পরেন। পর্যাপ্ত ঘুমালেও আনলক, লকাপ, গুনতি এগুলোর নিয়ম অনুসরণ করতে হয় তাকে। কারাগারের সাধারণ খাবারই খান পাপিয়া। মাঝে মধ্যে ক্যান্টিন থেকে খাবার কিনে খান। সপ্তাহে একদিন মোবাইলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। পাপিয়া যে সেলে বন্দি সেখানে সাজাপ্রাপ্ত আরও একাধিক নারী রয়েছেন। তাদের সবাইকে আলাদা নজরদারির মধ্যে রাখে কারা কর্তৃপক্ষ।

সূত্রটি আরো জানায়, জেলখানায় পাপিয়া নামাজ আদায় করেন। মাঝে মধ্যে লাইব্রেরি থেকে বই এনে পড়েন, তবে সেটা খুবই কম।

এমন অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে নিজের মধ্যে অনুশোচনা করতে দেখা যায় কি-না, জানতে চাইলে কারাগারের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ’অনুশোচনা তো হয়ই। কারাগারে এলে আর আটকা থাকলে সবার মধ্যে অনুশোচনা তো থাকেই। পাপিকাকেও প্রায়ই মন খারাপ করে বসে থাকতে দেখা যায়।’


যুবলীগের এই নেত্রী (পরে বহিষ্কৃত) স্বামী ও সহযোগীসহ গ্রেপ্তারের আগে গুলশানের অভিজাত হোটেল ওয়েস্টিনের ’প্রেসিডেনশিয়াল স্যুইট’ ভাড়া নিয়ে মাসে বিল গুনতেন কোটি টাকা। প্রতিদিন হোটেলের বিল বাবদ গড়ে খরচ করতেন আড়াই লাখ টাকা। সব সময় সঙ্গে থাকত সাতজন অল্পবয়সী তরুণী। আর আনাগোনা ছিল সমাজের নানা পর্যায়ে/র ’এ/লিট’ মানু/ষের। তরু/ণীদের/ অনৈ/তিক ব্য/বহা/র, /অ/স্ত্র/, মা/দ/ক, চো/রা/চা/লান, জাল নো/টের কা/র/বার, চাঁদা/বা/জি, তদবির-বাণি/জ্য, জা/য়/গাজমি দখল-বেদখল ও অনৈতি/ক বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ/বি/ত্তের মা/লিক হন পাপিয়া ও সু/মন দম্পতি।


গ্রেপ্তারর পর পাপিয়া ও তার স্বা/মীর বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় অ/স্ত্র/ ও /মা/দ/ক আইনে দুটি /মাম/লা/ করে র‌্যাব। বিমান/বন্দর থানায়ও তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন-১৯৭৪ এর অধীনে একটি /মা/মলা/ দায়ে/র করা হয়। আর মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ আইনে সিআইডি আরেকটি মা/ম/লা /করে। এছাড়া দু/দকও পা/পি/য়া/র অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করছে।

তদন্ত শেষে র‌্যাবের পক্ষ থেকে তিনটি মা/ম/লার প্রতিবেদনই আদালতে জমা দেয়া হয়েছে। বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমা/ন্ডার খন্দকার আল মঈন এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শেরে বাংলা নগর থানায় /অ/স্ত্র আ/ইনে করা মা/ম/লা/র প্রতিবেদন গত বছ/রের ২৩ মার্চ জমা দেয়া হয়। সেই মামলায় ১২ অক্টোব/র ২০ বছরের সাজা হয়েছে এই /দ/ম্প/তি/র।

একই থানার আ/রেকটি মা/মলা/র প্রতিবেদন ১০ আগস্ট জমা দিয়েছে র‌্যাব। আর বিমানবন্দর থানায় করা মামলার প্রতিবেদন ২৯ নভেম্বর র‌্যাবের পক্ষ থেকে জমা দেয়া হয়েছে।


উল্লেখ্য, গত বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি পাপিয়াকে আটকের পরপরই বাসায় তল্লাশি চালিয়ে দেশি-বিদেশী অ/স্ত্র, ৫ বতল ম/দ, ২০টি গু/লিসহ নানা অবৈধ বস্তু উদ্ধার করে র‍্যাব। এরপর তার বিরুদ্ধে করা অ/স্ত্র মা/ম/লায় ২০ বছরের কারাদণ্ডের রায় দিতেই তাকে কারগারে নেয় পুলিশ। এখন পর্যন্ত কারাগারেই দিন কাটছে তার।