চিকিৎসকের এক ভুলের কারনে শেষমেষ অকালেই প্রাণ হারাতে হলো সেই শারমিন আক্তারকে (২৫)। জানা যায়, গত বছরের ৫ নভেম্বর শারমিনের সিজিরিয়ান অপারেশনকালে ভুলবসত পেটে গজ রেখেই সেলাই করে দেন চিকিৎসক। আর এ অবস্থায় দীর্ঘ ৫ মাস পর হঠাৎ করেই তার শারীরিক অবস্থার ব্যাপক অবনতি ঘটলে গত ৬ই এপ্রিল পুনরায় অপারেশন করে পেট থেকে গজটি বের করা সম্ভব হলেও প্রাণে বাচানো সম্ভব হয়নি তাকে।
মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে লাইফসাপোর্টে থাকা অবস্থায় তার /মৃ/ত্যু/ হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শারমিনের বাবা মো. মোবারক হোসেন।

বুধবার ভোরে শারমিনের মরদেহ ঢাকা থেকে তার বাবার বাড়ি জেলার দেবিদ্বারের হোসেনপুর গ্রামে আনা হয়। সেখানে সকাল ১০টায় প্রথম জানাজা শেষে নেয়া হবে তার স্বামীর বাড়ি জেলার মুরাদনগর উপজেলার মোগসাইর গ্রামে। সেখানে বাদ জোহর দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে সমাহিত করার কথা রয়েছে।
এদিকে, ভুল চিকিৎসার বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে এখনো কাজ শুরু করেনি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তদন্ত কমিটি।
যা গত এক সপ্তাহ ধরে সামাজিক যোগাযাগ মাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা হয়।

শারমিন আক্তারের পরিবারের অভিযোগ, দেবিদ্বার সদরের আল ইসলাম হাসপাতালে তার সিজারিয়ান হয়েছিল ৫ মাস আগে। কিন্তু অপারেশনের সময় কর্ত/ব্য/রত ডাক্তার ও তার সহযোগীরা ভুলবশত: পে/টে গ/জ রেখেই সেলাই করে দেয়। কিন্তু তীব্র ব্যথা ওই প্র/সূতি/র অবস্থা সং/ক/টাপ/ন্ন দেখে গত ৬ই এপ্রিল রাতে অপর জেলার ময়/নাম/তির অপর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে পুনরায় অপারেশন করে পেট থেকে বের করা হয়েছিল গজ (মপ)। কিন্তু তার শারীরিক অব/স্থার অবনতি ঘটায় গত শনিবার (১০ এপ্রিল) ভোরে তাকে ঢাকার একটি বিশেষায়িত হাসপাতা/লের আ/ইসি/ইউ/তে নেওয়া হয়েছিল এবং পরে নেওয়া হয় লা/ই/ফ সাপো/র্টে।
শারমিনের স্বামী রাসেল মিয়া জানান, গত বছরের ৫ই নভেম্বর দেবিদ্বার আল ইসলাম হসপিটালে তার সিজিরিয়ান অপারেশন করেন ওই হাসপাতালের খ/ণ্ড/কা/লীন গা/ই/নি চিকিৎসক ডা. রোজিনা আক্তার। জন্ম হয় ছেলে সন্তান। গত ৯ই নভেম্বর তাকে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেয়া হয়। ডাক্তারের এ ভুলে আমার সা/ড়ে ৩ বছরের ক/ন্যা মা/ন/হা এবং সাড়ে ৫ মাস বয়/সী মু/নতাছি/রকে কিভাবে মা/য়ের /শূ/ন্য/তা পূরণ করবো ? চিকিৎসকদের ভুলের এ খেসারত স্ত্রীর মৃ/ত্যু/র মধ্য দিয়েই দিতে হবে তা ভাবতে পা/রিনি।
শারমিনের বড় ভাই রহুল আ/মিন জানান, ওই প্রাইভেট হাসপাতালে তার বোনকে ভর্তির পর কর্তব্যরত চিকিৎসক রোজিনা আক্তার তাকে দেখে জরুরি সিজার করতে পরামর্শ দেন। ডাক্তারের কথা শুনে আমরা সিজারে রাজী হলে ৫ নভেম্বর ডা. রোজিনা আক্তার ও তার সহযোগী ডা. শামীমা আক্তার লিন্টাসহ অন্যান্য নার্স ও ওটি বয় মিলে তার বোনের সিজা/র সম্পন্ন করেন। সিজারের দুই দিন পর থেকে শারমিনের পে/টে ব্য/থা হতে থাকে, হাসপাতাল থেকে এ সময় কিছু ওষুধ/ দেয়া হয়। হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পর অপারেশনে/র ক্ষ/ত থে/কে পুঁজ বের হতে থাকে। পরে ব্যথা আরও বেড়ে/ গেলে তাকে কু/মি/ল্লাসহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা প্রচুর/ ওষুধ খেতে দেন। কিন্তু তার জীবন সংকটাপন্ন দেখে গত ৬ই এপ্রিল জেলার ময়নামতি ক্যান্টনমেন্ট জেনারেল হাসপাতালে তার অপারেশন করে পেট থেকে গজ বের করা হয়। তিনি আরও জানান, দেবিদ্বারে আমার বোনের সিজারিয়ান অপারেশনে নিয়োজিত চিকিৎসকের এমন ভুলের কারণে পেটে গজ নিয়ে গত ৫ মাস আমার বোন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে ছিল। দীর্ঘ এ সময়ে দেশের অনেক নামী-দামী হসপিটালে ঘুরেছি, অর্থ ব্যয় করেছি। কিন্তু সব স্থানেই ভুল চিকিৎসা ও প্রতারিত হয়েছি। কার কাছে বিচার চাইবো ?

এ ব্যাপারে আল ইসলাম হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়াজ মোহাম্মদ হোসেন (এনাম) বলেন, ’ঘটনাটি যেভাবেই কিংবা যার ভুলেই হোক এ অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যুতে আমরা অনুতপ্ত এবং এ পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি বিষয়টি তদন্ত করছে।’



এদিকে এ ব্যাপারে কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসাইনের সঙ্গে মুঠো ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংবাদ মাধ্যমকে জানান, ইতিমধ্যে ঐ প্রসূতির মৃ/ত্যুর সংবাদ পেয়েছেন তারা। আর সেহেতু আগে থেকেই পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি আগেই গঠন করেছেন। তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।