প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ আসতে না আসতেই ফের লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। ফলে গোটা দেশজুড়ে নেমে এসেছে আতঙ্কের ছায়া। আর তাই এ ভয়াবহ পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে সতর্ক করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন ঘুষ কেলেংকারীর দায়ে কুয়েতে সাজাপ্রাপ্ত লক্ষ্মীপুরের সাবেক এমপি কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম। মহামারি করোনাভাইরাসের এ দুঃসময়ে লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনের বাসিন্দাদের জন্য তার মন কাঁদে উল্লেখ করে স্ট্যাটাসটি দেয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে সেলিনা ইসলাম তার ব্যবহৃত ফেসবুক পেজে লেখাটি পোস্ট করেন। এরসঙ্গে কোনো এক সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে পাপুল-সেলিনাসহ তোলা একটি ছবিজুড়ে দেওয়া হয়।

সেলিনা ইসলাম কুমিল্লা জেলার সংরক্ষিত আসনের এমপি। গেল বছর করোনার শুরুতে এমপি পাপুলের অনুপস্থিতিতে তিনি লক্ষ্মীপুর-২ সংসদীয় আসনের প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে অসহায়দের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছিলেন।

সেলিনা ইসলাম তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ’প্রিয় রায়পুর ও লক্ষ্মীপুরবাসী। আসসালামু আলাইকুম। দেশের এই কঠিন মুহূর্তে আপনাদের জন্য আমার মন কাঁদে। আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, গত বছর এই সময়ে আমি অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও আমার স্বামী আপনাদের প্রিয় সাংসদ পাপুলের পক্ষে আপনাদের পাশে ছিলাম। নিজ পরিবার, ছেলে-মেয়ে, সবাইকে দূরে রেখে সাধ্যমতো আপনাদের পাশে থেকে সাহায্য করার চেষ্টা করেছি। গরিব-অসহায় মানুষের কথা ভেবে ছুটে বেঁড়িয়েছি রায়পুর-লক্ষ্মীপুরের বিস্তীর্ণ এলাকায়। আজ এমন করোনা মহামারিতে কেমন আছেন জানি না। তবে মোটামুটি খোঁজ খবর নেয়ার চেষ্টা করি।

আমাদের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে প্রবল ইচ্ছা থাকলেও আপনাদের পাশে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। মনের আকুতি আর আপনাদের জন্য ভালোবাসা হয়ত দেখাতে পারছি না। কিন্তু প্রতিটি মুহূর্তে আপনাদের জন্য মন কাঁদে, খুব চিন্তা হয়। দোয়া করবেন, যেন সকল ষড়যন্ত্র আর সকল সমস্যা সমাধান করে আবারো আপনাদের পাশে দাঁড়াতে পারি।

সবাই নিরাপদে থাকবেন। নিয়মিত মাস্ক পরবেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে নিরাপদ ও ভালো রাখুক। আল্লাহ হাফেজ। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু!’


উল্লেখ্য, অর্থ ও মানব পাচারের অভিযোগে গত বছরের ৬ জুন কুয়েতে আটক হন লক্ষ্মীপুরের সাবেক সংসদ সদস্য পাপুল। তবে পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আসা ঘুষ কেলেংকারীর অভিযোগে ৪ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ডের আদেশ দেয় দেশটির আদালত। এই মুহুর্তে কারাগারের চার দেয়ার মাঝেই দিন কাটছে তার।