ক্ষমতার অপব্যবহার করে সম্প্রতি অপ্রাপ্ত বয়স্ক এক কিশোরীকে বিয়ে করে রীতিমতো নানা সামলোচনায় জড়িয়ে পড়েছেন মো. শাহিন হাওলাদার নামে এক ইউপি চেয়ারম্যান। তবে এ অপরাধের দায়ে ইতিমধ্যে ঐ চেয়ারম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে এ ঘটনায় গোটা এলাকাজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক শোরগোল।

জানা গেছে, পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ৬ নম্বর কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শাহিন হাওলাদার সালিশ করতে গিয়ে ঐ কিশোরীকে বিয়ে করেন। এ ঘটনায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৩৪ (৪) (ঘ) ধারার অপরাধ সংঘটিত করায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া কেন তাকে চূড়ান্তভাবে অপসারণ করা হবে না তা পত্র প্রাপ্তির ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগে জবাব পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে। তাকে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাউফল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জাকির হোসেন।


উল্লেখ্য, কনকদিয়া ইউনিয়নের নারায়নপাশা গ্রামের বাসিন্দা মো. রমজান (২৫) একই ইউনিয়নের চুনারপুল এলাকার অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। কিন্তু প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি মেয়েটির বাবা। তিনি বিষয়টি কনকদিয়া ইউপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. শাহিন হাওলাদারকে জানান। পরে চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার আনুষ্ঠানিকভাবে ওই যুবক ও কিশোরীর বিয়ে দেয়ার কথা বলে কনকদিয়া ইউপি কার্যালয়ে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করেন।
সে অনুযায়ী গত শুক্রবার সকাল ৯টায় দুই পরিবারের সদস্যরা ইউপি কার্যালয়ে যান।
সেখানে মেয়েটিকে দেখে পছন্দ হয়ে যায় চেয়ারম্যানের। তিনি মেয়েটিকে বিয়ে করার আগ্রহ দেখান। মেয়ের বাবা এতে রাজি হলে বিকেলেই কাজি ডেকে পাঁচ লাখ টাকা দেনমোহরে মেয়েটিকে বিয়ে করেন চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার। বিয়ের কাবিননামায় মেয়েটির জন্ম তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ২০০৩ সালের ১১ এপ্রিল। কিন্তু বিদ্যালয়ে দেওয়া জন্মনিবন্ধন ও পিএসসি পাসের সনদ অনুযায়ী মেয়েটির জন্ম তারিখ ২০০৭ সালের ১১ এপ্রিল। বিয়ের পর মেয়েটিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান চেয়ারম্যান। তবে বাড়িতে তার প্রথম স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন না।


তবে বিয়ের পরপরই রীতিমতো নানা সমালোচনায় জড়িয়ে পড়লে আইনি ঝামেলা থেকে বাঁচাতে কৌশলে কিশোরী নসিমন বেগমের কাছ থেকে তালাকনামা নিয়ে নেন ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার। এরপর বিয়ের মাত্র একদিন পরেই নসিমনকে প্রেমিকের হাতে তুলে দেন তিনি। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে তদন্তে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।