বাংলা সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় ও খ্যাতিমান অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল। অভিনয়ের পাশাপাশি একজন প্রযোজক হিসেবেও বেশ সাফল্য পেয়েছেন তিনি। আর এবার পার্লামেন্টের একজন সদস্য হতে চান বলে নিজের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন গুণী তারকা। একই সাথে সদ্য প্রয়াত ঢাকা-১৪ আসনের সাংসদ আসলামুল হকের জায়গায় নির্বাচন করতে চান এই তারকা। এর আগে ফেসবুকে ডিপজলের ফ্যানপেজে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও এবার সরাসরি তিনি আগ্রহ প্রকাশ করলেন। গণমাধ্যমে পাঠানো বার্তায় নিজের ইচ্ছের কথাটি জানান।
সাংসদ আসলামুল হকের মৃত্যুতে বর্তমানে তার আসনটি শূন্য হয়েছে। এ আসনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে অনেকে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। এরমধ্যে রয়েছেন চলচ্চিত্রের মুভিলর্ডখ্যাত ডিপজলও।

তিনি বলেন, ’আমি নির্বাচনে নামতে চাই। দল থেকে মনোনয়ন দিলে আমি জিতে আসতে পারব, এ আত্মবিশ্বাস আছে। প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা দেশকে যেভাবে বিশ্ব দরবারে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে দাঁড় করিয়েছেন, বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করেছেন- আমিও এই উন্নয়নের অংশীদার হয়ে তা এগিয়ে নিতে চাই।’

ডিপজল একসময় বিএনপি’র সমর্থন নিয়ে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ঢাকার ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর (তখনকার কমিশনার) পদে জয়ী হয়েছিলেন। বিএনপি’র রাজনীতি করতে গিয়ে কারাবাসও করতে হয়েছে এই অভিনেতাকে।

অন্যদিকে, সমাজসেবক হিসেবে ডিপজলের সুনাম বেশ পুরনো। সিনেমা শিল্পেও নানা ক্রান্তিলগ্নে দু’হাত খুলে দান করেছেন, সহায়তা দিয়েছেন। এলাকাবাসীর জন্য তার অনেক উদ্যোগই প্রশংসা পেয়েছে। ডিপজল যোগ করেন, ’আমার জন্ম এ এলাকায়। এখানকার মানুষের সুখ-দুঃখের সাথে সবসময়ই জড়িয়ে আছি। চেষ্টা করেছি, মানুষের পাশে দাঁড়াতে। আমার এলাকার মানুষের সমস্যা সম্পর্কে আমার চেয়ে বেশি কেউ জানে না। তারা আমার আপনজন। আমি তাদেরই একজন।’

এদিকে, ডিপজল চলতি বছর তিনটি সিনেমার শুটিং শেষ করেছেন। সিনেমাগুলো হলো- অমানুষ হলো মানুষ, বাংলার হারকিউলিস এবং যেমন জামাই তেমন বউ। ঈদের পর শুরু করবেন ’কোটি টাকার কাবিন’ ও ’চাচ্চু’ ছবি দুটির সিক্যুয়েল।


প্রসঙ্গত, ১৯৯৩ সালে ’টাকার পাহাড়’ সিনেমায় অভিনয়ের মধ্যদিয়ে বড় পর্দার অভিনেতা হিসেবে প্রথমবারের মতো আত্মপ্রকাশ করেন এই তারকা। তবে তার অভিনীত অধিকাংশ সিনেমাতেই তাকে খল চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গেলেও বাস্তব জীবনে তিনি খুবই বন্ধুপ্রিয় একজন মানুষ।