বাংলা সিনেমা জগতে ’খল’ চরিত্রে অভিনয় করে ভক্তদের মাঝে ব্যাপক সাড়া পাওয়া অভিনেত্রীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য- দুলারী, রীনা খান ও শবনম পারভীন। তাদের অভিনীত প্রায় প্রতিটি সিনেমাই ব্যবসায় সফলের পাশাপাশি পেয়েছে দারুন জনপ্রিয়তাও। তবে প্রথমত ’খল’ চরিত্রে অভিনয় করার তাদের কোনো ইচ্ছাই ছিল না, মূলত নায়িকা হিসেবেই বড় পর্দায় অভিষেক ঘটেছিল তাদের। কিন্তু দর্শকরা তাদের গ্রহণ করেনি। সিনেমায় তাদের সাফল্য এসেছে নেগেটিভ চরিত্রে কাজ করে।


এখন কেমন আছেন, কোথায় আছেন, কি করছেন এই তিন খল অভিনেত্রী? এই বিষয়টিই তুলে আনার চেষ্টা করা হয়েছে এই প্রতিবেদনে। দুলারী নেগেটিভ চরিত্রে নিজেকে মেলে ধরেন অসংখ্য ছবিতে। তার পর্দায় উপস্থিতি হল ভর্তি দর্শকদের চোখে মুখে ঘৃণার প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠতো। অনেক দর্শক তার অভিনয় দেখে হলের ভেতরেই গালি দিতেন। ভাবতেন সত্যিই বুঝি তিনি ব্যক্তি জীবনে খুবই নিষ্ঠুর। দুলারী এ প্রসঙ্গে বলেন, কি যে যন্ত্রণা হতো যখন কোনো অনুষ্ঠানে, মার্কেটে যেতাম! আমার প্রতি যে মানুষের চাহনি-মনে হতো এই বুঝি মারবে। কেন আমি বাংলার বউ, বিদ্রোহ বধূতে মৌসুমীকে অত্যাচার করেছি, কেন তার মুখে বিষ ঢেলে দিয়েছি। তারা ভাবতো সত্যি সত্যি আমি এইসব করেছি। করোনাকালীন এই সময় কীভাবে সময় পার করছেন? এ অভিনেত্রী বলেন, বিপদের মধ্যে যাচ্ছি। গত দুই বছর ঘরেই বসে আছি। আয় রোজগার বন্ধ। কিন্তু খরচ তো থেমে নেই। গত দু’বছরে ডিপজলের ’যেমন বউ তেমন জামাই’, ’বাংলার হারকিউলিস’, ’মানুষ কেন অমানুষ’ ছবিগুলো করেছি। আর নাগরিক টিভিতে ধারাবাহিক ’হৃদয়ের আঙ্গিনা’য় অভিনয় করছি। একজন শিল্পীর জন্য দীর্ঘ সময় কাজে না থাকা কি যে কষ্টের- বোঝানো যাবে না। এটাও সত্যি করোনার কাছে আমরা সবাই অসহায়। সিনেমায় আসার আগে রীনা খানের পরিচিতি ছিল জাতীয় সাইক্লিস্ট হিসেবে। খেলার জগৎ থেকে রুপালি পর্দায় তার আগমন। এখন কেমন আছেন এই খল অভিনেত্রী? উত্তরে রীনা খান বলেন, ভালো থাকি কীভাবে? দীর্ঘ সময় ঘরে অলস সময় পার করছি। একজন শিল্পীর জন্য খুবই অস্বস্তিকর। মানসিকভাবে, আর্থিকভাবে সব দিক দিয়েই। করোনাকালীন সময় কি ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন? তিনি বলেন, হ্যাঁ। ডিপজল ভাইয়ের ’যেমন বউ তেমন জামাই’ ছবিতে অভিনয় করেছি। তবে শেষ কবে শুটিংয়ের জন্য গিয়েছি মনে নেই। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা অনেক আগে থেকেই খারাপের দিকে যাচ্ছিল। করোনা আরও করুণ অবস্থা করে দিয়েছে। রুপালি পর্দার আরেক খল অভিনেত্রী শবনম পারভীন। তিনিও ভালো নেই তেমন। এ অভিনেত্রী বলেন, করোনা সব ওলট-পালট করে দিয়েছে। শুধু কি আর্থিক সংকটে ভুগছি, এই বয়সে মানসিক শক্তিও কমে যাচ্ছে। একজন শিল্পীর ক্ষুধা হলো অভিনয়। হয়তো টাকা অনেকের কাছে মুখ্য বিষয় কিন্তু একজন প্রকৃত শিল্পী অভিনয়েই বেঁচে থাকার প্রেরণা পায়। কিন্তু কাজ না থাকায় এখন অলস সময় পার করতে হচ্ছে।


বর্তমানে বড় পর্দা থেকে তারা অনেকটা দুরে সড়ে গেলেও ভক্তদের মাঝে তারা এখনো আগের মতই বিরাজমান। বলতে গেলে, প্রতিনিয়ত তাদের অভিনীত নতুন কোনো সিনেমার অপেক্ষার প্রহর গুনছে কোটি কোটি ভক্ত ও শুভাকাঙ্খিরা। এমনকি অনেকেই দাবি করেছেন, বাংলা সিনেমার মোড় ঘোরাতে তাদের মতো গুণী তারকাদের এখন খুব প্রয়োজন।