গত বছরের ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো করোনা সংক্রমন ধরা পড়ে। যদিও এ ব্যাপারে ততক্ষনাৎ পদক্ষেপ নিলেও ধীরে ধীরে করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় গত বছরের ১৭ মার্চ সর্বত্র লকডাউনের ঘোষনা দেয় প্রশাসন। আর এরপর থেকেই অনেকটা ঘরবন্দি হয়ে জীবন যাপন করতে হচ্ছে সবাইকে। এমনকি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম নয়।

শুধু তাই নয়, করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে বাইরে যেতে না পারাকে বন্দিদশার সঙ্গে তুলনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, ’আগে ছিলাম ছোট জেলখানায় আর এখন বড় জেলখানায়। কারণ, এই গণভবন থেকে বেরোতে পারিনি। তবে এটা একটু বড় জেলখানা। নিচে নামতে পারি, মাঠে হাঁটতে পারি। কিন্তু আগে তো একটা ঘরে বন্দি ছিলাম। বের হওয়ার উপায় ছিল না। কলাপসিবল গেট দিয়ে বন্ধ করা ছিল।’



রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে রোববার সকালে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগসমূহের ২০২১-২২ অর্থবছরের বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি (এপিএ) স্বাক্ষর এবং এপিএ ও শুদ্ধাচার পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এভাবেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন সরকারপ্রধান।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’আমাদের লক্ষ্য আমরা স্থির করেছিলাম ২০২১ সালের মধ্যে দেশ ডিজিটাল হবে। এটা বলেছিলাম বলেই আজকে বাংলাদেশ সত্যিই ডিজিটাল বাংলাদেশ, আর সে কারণেই… যদিও করোনার কারণে আমি বলতে গেলে একরকম বন্দি জীবন কাটাচ্ছি।

’আগে ছিলাম ছোট জেলখানায় আর এখন বড় জেলখানায়। কারণ, এই গণভবন থেকে বেরোতে পারিনি। তবে এটা একটু বড় জেলখানা। নিচে নামতে পারি, মাঠে হাঁটতে পারি। কিন্তু আগে তো একটা ঘরে বন্দি ছিলাম। বের হওয়ার উপায় ছিল না। কলাপসিবল গেট দিয়ে বন্ধ করা ছিল।’


এর আগে সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় যৌথ বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার স্মৃতিচারণা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ’গ্রেপ্তারের পরদিনই আমার সম্পদের হিসাব চাওয়া হয়। এরপর একের পর এক মামলা।

’বিএনপির সময় মামলা দিয়েছিল ১২টা, তত্ত্বাবধায়ক দিল আরও ৫টা। এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছিল যে, কোনো দিনই আর আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আর আসতে দেবে না। কিন্তু আমার আত্মবিশ্বাস ছিল।’

২০০৭ সালের ১৬ জুলাই ভোরে ধানমন্ডিতে শেখ হাসিনার তৎকালীন বাসভবন সুধা সদন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাজারেরও বেশি সদস্য। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির নানা অভিযোগ আনা হয়। পরে অবশ্য আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে ২০০৮ সালের ১১ জুন শেখ হাসিনাকে মুক্তি দেয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার।

অনুষ্ঠানে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দেশে সুশাসন নিশ্চিত করার তাগিদ দেন সরকারপ্রধান। বলেন, ’আর তার জন্য এই শুদ্ধাচারের একটি ব্যবস্থা আমরা নিয়েছি। প্রতিটি ক্ষেত্রে যে জবাবদিহি থাকা উচিত এবং কোন অবস্থায় কী করণীয় এই শুদ্ধাচার নীতিমালার মধ্যে তার প্রত্যেকটি কথাই বলে দেয়া হয়েছে।

’এর সুফল দেশের কল্যাণে আসবে, দেশের জনগণ এর সুফল পাবে সে চেষ্টাই আমরা চালিয়েছি।’


বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের তত্বাবধায়নে দেশের মানুষ আজ ন্যায্য অধিকার ফিরে পেয়েছে। এমনকি সর্বদা দেশের মানুষের পাশে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে সজাগ দৃষ্টি রাখছেন এ সরকার। এছাড়াও করোনাকালীন এ পরিস্থিতির মধ্য দিয়েও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।